দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু : ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৪২, আক্রান্ত নতুন ২ হাজার ৭৪৩ ও সুস্থ্য ৫৭৮
উত্তরদক্ষিণ : রবিবার ০৭ জুন ২০২০ । আপডেট ১৪:৫৮
একদিনে রেকর্ড ৪২ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে করোনায় (কোভিড-১৯) মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় নয় শ’ হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা রবিবার (০৭ জুন) নিয়মিত বুলেটিনে দেশের করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) জনিত পরিস্থিতির সর্বশেষ চিত্রে এই তথ্য জানা যায়। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তার দশ দিনের মাথায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। আজ রবিবারে দেয়া তথ্যে মতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা জানা গেল।
রোববার (০৭ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৫২টি পরীক্ষাগার থেকে নমুনা পরীক্ষার তথ্য মতেে একদিনে রেকর্ড ৪২ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৮৮ জন।
আক্রান্ত হিসেবে নতুন ভাবে চিহ্নিত হয়েছেন (কমপক্ষে) ২ হাজার ৭৪৩ জন এবং সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন (কমপক্ষে) আরও ৫৭৮ জন।
সর্বমোট আক্রান্তঃ সব মিলিয়ে আজ রবিবার (০৭ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন ২ হাজার ৭৪৩ জন সহ সারা দেশে পরীক্ষায়/টেস্টে সংক্রমণ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে (কমপক্ষে) ৬৫ হাজার ৭৬৯ জন।
সর্বমোট মৃতঃ দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে সর্বমোট ৮৮৮ জন।
সর্বমোট সুস্থ্যতা লাভঃ সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরও ৫৭৮ জন। সব মিলিয়ে এ যাবত সুস্থতা লাভ করলেন সর্বমোট (কমপক্ষে) ১৩ হাজার ৯০৩ জন।
নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ, ৭ জন নারী। তাদের মধ্যে ৩০ জন হাসপাতালে এবং ১২ জন বাড়িতে মারা গেছেন।
তাদের ২৭ জন ঢাকা বিভাগের, ৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ২ জন সিলেট বিভাগের, ২ জন রাজশাহী বিভাগের, ২ জন খুলনা বিভাগের এবং ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
এই ৪২ জনের মধ্যে এক জনের বয়স ছিল ৯০ বছরের বেশি। এছাড়া ৩ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১৪ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৯ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ছিল থেকে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
বুলেটিনে জানানো হয়, নতুন ৩টি সারা দেশে ৫৫টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
নতুন দুটি পরীক্ষাগার হল ঢাকার সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার ও গাজীপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ।
নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২টি পরীক্ষাগারে ১৩ হাজার ১৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮৭টি।
নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৪ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে আনা হয়েছে ৪৬৭ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে আইসোলেশনে রয়েছেন ৭ হাজার ৩৯৯ জন রোগী।

