৪ মন্ত্রীসহ ১৩ এমপি আক্রান্ত, মৃত্যু ২: সংসদে সুরক্ষা ব্যবস্থা

৪ মন্ত্রীসহ ১৩ এমপি আক্রান্ত, মৃত্যু ২: সংসদে সুরক্ষা ব্যবস্থা

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ২০২০ । ১৮:১০

দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৩ জন সংসদ সদস্য কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য আছেন ৪ জন। এর বাইরে সংসদ সচিবালয়ের মোট ৯১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ছিল বাংলাদেশে। ওই সময়ে ১৮ এপ্রিল মাত্র একদিনের জন্য সংসদ অধিবেশন বসেছিল। এর আগে ২২ মার্চ আহ্বান করা সংসদের বিশেষ অধিবেশনও স্থগিত করা হয়েছিল। তবে গত ১০ জুন সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। মোট ১২ কার্যদিবস চলবে এই অধিবেশন।

এর মধ্যে সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয় ও অন্যান্য দপ্তরে কর্মরত কর্মীদের কোভিড-১৯ শনাক্ত হবার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

জাতীয় সংসদে মন্ত্রিপরিষদের যে চার জন সদস্য অঅক্রান্ত হয়েছেন তারা হলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তাদের মধ্যে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ১৩ জুন মারা গেছেন। এছাড়াও সাবেক মন্ত্রী ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোহাম্মদ নাসিমও মারা যাবার আগে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছিলেন।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আক্রান্ত সংসদ সদস্যের কেউ কেউ পরিবারের অন্য সদস্যসহ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে এখন যেহেতু বাজেট অধিবেশন চলছে, সংসদ সদস্যদের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা?
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেছেন, সদস্যদের কোনও লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা গেলেই নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দেয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া সংসদ অধিবেশন কক্ষে সাময়িকভাবে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। অসুস্থ এবং বয়স্ক সংসদ সদস্যদের সংসদে না আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। চিফ হুইপ বলেন, “এর বাইরে সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। গত ১৫ জুন সম্পূরক বাজেট পাশের পর আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি থাকবে। সংসদে যারা আসবেন তারাও বাই-রোটেশন আসবেন, মানে আজকে আসলে আবার পরবর্তী কয়েকদিন আসবেন না”

এছাড়া সংসদে যাওয়া-আসার পথগুলোকেও সুরক্ষিত করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সংসদ সদস্যদের কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং করার ক্ষেত্রে সংসদের পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগ নেয়া হয়নি। নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, “এটা সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা বা যেখানে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন, সেই জায়গায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা করেছেন।”

এদিকে, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ পর্যন্ত অন্তত ৯১জন কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখেই জুন মাসের ২ তারিখ থেকে সংসদের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত ৯৫৫জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সংসদ সচিবালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মেডিকেল শাখার একজন চিকিৎসক বলেছেন, ১৬ জুন পর্যন্ত মোট ৯১জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সবাইকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। এখন তাদের চিকিৎসা চলছে। ‌এখনো পর্যন্ত এদের কেউ গুরুতর অসুস্থ নন। তাদের বেশির ভাগেরই কোনও সিম্পটম ছিল না।

এর বাইরে নমুনা পরীক্ষা করতে দেয়া হয়েছে, এখনো ফল হাতে আসেনি- এরকম কয়েকজন রয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। চিফ হুইপ জানিয়েছেন, যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সবাই সংসদ সচিবালয়ের কর্মী নন। এদের মধ্যে সংসদ ভবন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। অধিবেশন চলাকালে যেহেতু আমাদের সবাইকে একসঙ্গে দরকার নাই, তাই আমরা তাদের জন্যও ভাগে ভাগে আসার ব্যবস্থা করেছি, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বা রোধ করা যায়।

সংসদের ৯১ কর্মী করোনায় আক্রান্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading