প্রয়োজনে ‘সীমান্তে সামরিক শক্তি প্রয়োগের’ অঙ্গীকার মোদীর
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার ২০ জুন ২০২০ । আপডেট ১৮:১০
লাদাখ সীমান্তে চীনা সৈন্যদের সাথে সংঘাতের জেরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২০ জন সদস্য মারা যাওয়ার পর প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও নিজেদের সীমান্ত রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছেন ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, ইন্ডিয়ার সীমান্তের ভেতরে কোনো বিদেশি সৈন্য নেই এবং ইন্ডিয়ার সীমানার ভেতরের কোনও অংশের দখলও তারা হারায়নি। তবে হিমালয়ে বিরোধপূর্ণ সীমান্তে সংঘর্ষের পর কতজন সৈন্য হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো বিবৃতি দেয়নি চীন।
দুই দেশের মধ্যে সীমান্তের এই এলাকা ভালভাবে চিহ্ণিত নয়। এই গালওয়ান উপত্যকার আবহাওয়া অত্যন্ত বৈরি, সেই সাথে এর অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক ওপরে। এলাকাটি যে কোনওরকম ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে থাকে, যা স্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ আরও কঠিন করে তোলে। এ খবর বিবিসির।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি বলছে, পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন দুই দেশ একে অপরের সেনাদের বিরুদ্ধে সীমান্তরেখা অতিক্রম করে সংঘর্ষে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ তুলেছে। ইন্ডিয়া দাবি করেছে, লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে হওয়া ঐ সংঘাতে দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার টেলিভিশনে প্রচার হওয়া এক বিবৃতিতে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারতের সেনাবাহিনীকে ‘প্রয়োজনীয় সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পূর্ণ ইঙ্গিত’ দেয়া হয়েছে, যেন তারা ভারতের সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। তিনি বলেন, “পুরো দেশ চীনের পদক্ষেপের ফলে আহত ও ক্ষুদ্ধ হয়েছে। ভারত শান্তি ও বন্ধুত্ব চায়, কিন্তু সার্বভৌমত্ব ধরে রাখা সর্বাগ্রে।”
মোদী দাবি করেন যে, সোমবারের সংঘর্ষের পর ভারতের সীমানার ভেতরে ‘কেউ অবস্থান করছে না, আর ভারতের কোনো অংশ দখলও করা হয়নি।’
ওদিকে চীনও জানিয়েছে যে, তাদের হেফাজতে কোনো ভারতীয় সৈন্য নেই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, “আমি যতদূর জানি, চীনের হেফাজতে এই মুহূর্তে কোনো ভারতীয় সেনা নেই।” তবে ভারতীয় সৈন্যদের আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করনেনি তিনি।
ভারতের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৬ জুনের সংঘাতের পর ভারত সেনাবাহিনীর ৬ জন জাওয়ান ও ৪ জন সেনা কর্মকর্তাকে আটক করে চীন, যাদেরকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছেড়ে দেয়া হয়।

