সূর্যগ্রহণ : বাংলাদেশ থেকে আংশিক দেখা যাবে

সূর্যগ্রহণ : বাংলাদেশ থেকে আংশিক দেখা যাবে
সূর্যগ্রহণ । রিং অব ফায়ার

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার ২১ জুন ২০২০ । আপডেট ১১:২৯

বছরের প্রথম বলয়-গ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটছে আজ রোববার (২০ জুন), বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশেও সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। তবে বাংলাদেশ থেকে আংশিক দেখা যাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বাংলাদেশে সূর্যগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ১১টা ১৭ মিনিটে। এর স্থায়ীত্ব হবে ৩ ঘণ্টা ২৯ মিনিট।

বাংলাদেশ থেকে এই গ্রহণ পুরোপুরি দেখা না গেলেও বিশ্বের বহুদেশ থেকে ‘রিং অব ফায়ার’ দেখা যাবে।

এবারের সূর্যগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৯টা ৪৬ মিনিটে। প্রথম দেখা যাবে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ইম্পফোন্ডো শহরে। এরপর সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে কেন্দ্রীয় গ্রহণ শুরু হবে। সেটি দেখা যাবে কঙ্গোর বোমা শহর থেকে। সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে ভারতের যোশিমঠ শহর থেকে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে। গ্রহণ শেষ হওয়া দেখা যাবে ফিলিপাইনের সামার শহর থেকে দুপুর ২টা ৩১ মিনিটে। আর গ্রহণ শেষ হবে ফিলিপাইনের মিন্দানাও শহরে বেলা ৩টায় ৩৪ মিনিটে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, ঢাকায় এই গ্রহণ দেখা যাবে বেলা ১১টা ২৩ মিনিটে। পূর্ণ গ্রহণ দেখা যাবে ১টা ১২ মিনিটে, শেষ হবে ২টা ১৪ মিনিটে। প্রায় একই সময়ে দেশের অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে এই গ্রহণ দেখা যাবে। তবে মিনিটের হিসাবে কিছুটা কম বেশি হবে।

আবহাওয়ার খবরে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। রাজশাহী ও রংপুরে সকাল ১১টা ১৭ মিনিটে, খুলনায় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে, ঢাকা ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগে সকাল ১১টা ২৩ মিনিটে, সিলেটে সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে এবং চট্টগ্রামে সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী  বিভাগের কিছু কিছু  জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে সূর্যগ্রহণ শেষ হবে ২টা ৪৮ মিনিট থেকে ৫৫ মিনিটের মধ্যে। সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে ভারতের যোশীমঠ শহরে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে।

কক্ষপথ পরিক্রমায় চাঁদ যখন পৃথিবী আর সূর্যের মাঝে এক সরলরেখায় চলে আসে, তখন পৃথিবীর মানুষের চোখে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা পড়ে যায় সূর্য। পৃথিবীর মানুষ সেটাকেই সূর্যগ্রহণ বলে।

চাঁদ যখন সূর্যকে আংশিক ঢেকে দেয়, তখন তাকে বলে আংশিক সূর্যগ্রহণ। আর চাঁদের কৌণিক ব্যস সূর্যের চেয়ে ছোট হলে ঘটে বলয়গ্রাস গ্রহণ।

বলয়গ্রাসে পুরো সূর্য চাঁদের আড়ালে ঢাকা পড়ে না, চূড়ান্ত মুহূর্তে পৃথিবীর মানুষের চোখে অন্ধকার চাঁদের চারদিকে সূর্যের বাইরের অংশটি উজ্জ্বল বলয়ের আকারে দৃশ্যমান হয়। তাই একে বলা হয় ‘রিং অব ফায়ার’।

বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পর্যবেক্ষণ ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। তবে খালি চোখে সূরযগ্রহণ দেখা ঠিক নয়, তাতে চোখের ক্ষতি হতে পারে।

বিশেষ সোলার ফিল্টার ছাড়া বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ দিয়ে অথবা এক্স-রে ফিল্ম বা সানগ্লাস দিয়ে সূর্যগ্রহণ দেখাও নিরাপদ নয়।

এর আগে গতবছর ২৬ ডিসেম্বর বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। তখনও বাংলাদেশ থেকে আংশিক দেখা গিয়েছিল সেই গ্রহণ।

পৃথিবী থেকে প্রতি বছর দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। এর মধ্যে দুটি হয় পূর্ণগ্রাস; অর্থাৎ সূর্য কিছুক্ষণের জন্য পুরোপুরি চাঁদের পেছনে ঢাকা পড়ে যায়।

বাংলাদেশে সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ২০০৯ সালের ২২ জুলাই। বাংলাদেশ থেকে পরের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২১১৪ সালের ৩ জুন।

SekFaruk

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading