ডিএসইতে নিম্নমুখী লেনদেন, নানা প্রশ্ন

ডিএসইতে নিম্নমুখী লেনদেন, নানা প্রশ্ন

শেখফারুকউত্তরদক্ষিণ । রবিবার ২১ জুন ২০২০ । আপডেট ১৬:০০

করোনা কালে ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যান্য সেক্টরের মতোই মার্কেটেও স্থবিরতা বিরাজ করছে। আজও ডিএসই-তে লেনদেন নিম্নমুখী। পুঁজিবাজারের এই অবস্থার পিছনে কারসাজি থাকতে পারে অনেকের ধারণা।

করোনা মহামারির আগে থেকেই নানা ‘কারসাজি’ করে শেয়ার মার্কেটে ধ্বস নামিয়ে বিনিয়োগকারীদের পথে বসিয়েছে। এখন তাদেরকে সর্বশান্ত করার চলছে ‘ষড়যন্ত্র’, এটা বিনিয়োগকারীদের অনেকের ধারনা।

২০২০-২১ সালের প্রস্তাবিত নতুন বাজেটে শেয়ারবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। পুঁজিবাজারকে চাঙা করতে সরকার এই উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে ফলাফল দেখা যাচ্ছে উল্টো। ডুবতে থাকা দেশের পুঁজিবাজারকে কোনওভাবেই ‘ভালো’ হচ্ছে না। দেশের সবচেয়ে বড় পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জে (ডিএসই) প্রতিদিনই লেনদেনের পরিমাণ কমছে।

এর মধ্যে একটি প্রভাবশালী মহল ‘আরও কম দামে শেয়ার কেনা’র পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। তাদের পথে বড় বাঁধা শেয়ারের ‘ফ্লোর প্রাইস’। এই ‘ফ্লোর প্রাইস’ উঠিয়ে দেয়ার জন্য মার্কেটকে ‘ইচ্ছাকৃত’ ভাবে নিম্নমুখী রাখা হচ্ছে কিনা সেটা ভেবে দেখার বিষয়।

সপ্তাহের প্রথম দিন রবিবার (২১ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মোট ৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৬৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ঢাকার বাজারে এরচেয়ে কম লেনদেন হয়েছিল ১৩ বছর ২ মাস আগে। ২০০৭ সালের ২৩ এপ্রিল মোট ৩৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার হতবদল হয়েছিল। তখন তো ‘ফ্লোর প্রাইস’ ছিলো না, করোনা ছিলো তাহলে অত কম লেন্দেন কেন হয়েছিল?

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্ক আর টানা দরপতনের পর গত ১৯ মার্চ সার্কিট ব্রেকারের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। সেদিন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এক আদেশে বলা হয়, আগের পাঁচ দিন প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের ক্লোজিং প্রাইসের গড় হবে ওই কোম্পানির শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস। ওই শেয়ারের জন্য ওই দর ‘সার্কিট ব্রেকার’ হিসেবে গণ্য হবে। তবে দর বৃদ্ধিসহ অন্য ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকারের আগের নিয়মই অব্যাহত থাকবে।

অবশ্য লেনদেন কমলেও রবিবার (২০ জুন) ঢাকার বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ২ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৯৬২ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট হয়েছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট কমে হয়েছে ১১ হাজার ২৫০ পয়েন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ০৩ শতাংশ কম। সিএসইতে এদিন ৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৪৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭টির, আর কমেছে ১৪টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২১৪টির দর। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮টির, কমেছে ৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৪টির দর।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading