কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসা এটি কী মাছ?

কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসা এটি কী মাছ?

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার ২২ জুন ২০২০ । আপডেট ২০:০০

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্রসৈকতে একটি বৃহদাকার মাছ পাওয়া গেছে। কোনও নড়াচড়া না থাকায় সেটিকে মৃত বলে ধারণা করছেন স্থানীয় জেলেরা। স্থানীয়রা বলছেন, এটি তিমির বাচ্চা হতে পারে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ডলফিন। আর স্থানীয় মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, পরীক্ষার পর তারা মাছটির পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবে।

সোমবার (২২ জুন) সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া সমুদ্রে এই মাছটি দেখে লোকজন ভিড় করেন। এটিকে ‘হাম্পব্যাক’ প্রজাতির ডলফিন বলছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।

এর আগে চলতি বছরের ৩ ও ৪ এপ্রিল টেকনাফ উপকূলে ভেসে আসে অন্তত দুটি ডলফিনের মৃতদেহ। সর্বশেষ ভেসে আসা মাছটির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কক্সবাজার কার্যালয়ের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. এহসানুল করিম বলেন, ‘এটি ইন্দো-প্যাসিফিক বোতল নাক (হাম্পব্যাক) ডলফিন নামে পরিচিত। এই প্রজাতিগুলো দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করে থাকে। ধারণা করা হচ্ছে, খাবারের সন্ধানে দলছুট হয়ে ডলফিন মাছটি টেকনাফের কাছাকাছি এসেছে এবং আঘাত পেয়ে মারা গেছে।’

তিনি বলেন, ‘৯-১০ ফুট দীর্ঘ এই মাছটির ওজন ১৬০ কেজি হতে পারে। মূলত এই মাছগুলো ইন্ডিয়া এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রান্তীয় জলে পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ সাধারণ বোতলজাতীয় ডলফিনের বিপরীতে এই ডলফিনগুলো অগভীর, উপকূলীয় জল পছন্দ করে।’ মাছটি দেখতে অনেকটা তিমির মতো। এটি তিমি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে ড. এহসানুল করিম বলেন, ‘এটি সম্ভবত ডলফিনই। এই এলাকায় তিমি খুব একটা দেখা যায় না।’

তবে মাছটির ছবি দেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘এটি ব্রাইটাল তিমি। এগুলো বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে থাকে। এটা বাচ্ছা থেকে একটু বড় সাইজের।’ তিনি বলেছেন, ‘কীভাবে এটি মারা গেছে তা ময়নাতদন্ত করার পর বলা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, গভীর সমুদ্রে ফিশিং জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মারা যেতে পারে। ধাক্কা খেয়ে আঘাত পেয়ে এটি ঢেউয়ের সঙ্গে উপকূলে চলে আসে।’

স্থানীয় সাংবাদিক মো. জাকারিয়া আলফাজ জানান, সোমবার সকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সমুদ্রসৈকতে একটি মৃত বৃহদাকার মাছের দেখা মেলে। এ সময় সেটি দেখতে লোকজন ভিড় করে। অনেককে আবার ছবি তুলতে দেখা গেছে। দুপুর ১টা পর্যন্ত মাছটি সেখানে পড়ে ছিল। তবে আগের দিন সেখানে আরও একটি রক্তাক্ত প্রজাতির মাছ দেখে স্থানীয় জেলেরা সেটিকে গভীর সাগরে দিয়ে আসেন। এখন সেই মাছটি মারা গেছে কিনা সন্দেহ আছে।

টেকনাফ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘একটি বড় প্রজাতির মাছের মৃতদেহের বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।’ তথ্য সহায়তা বাংলাট্রিবিউন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading