এবারের হজের জন্য নিবন্ধিত নাম ২০২১ সালের জন্য বহাল থাকবে : ধর্ম সচিব
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২০ । আপডেট ১১:৪০
চলতি বছর (২০২০) পবিত্র হজে যাওয়ার জন্য যারা নাম প্রাক নিবন্ধন ও নিবন্ধন করেছেন তাদের উভয় নিবন্ধনই আগামী বছরের (২০২১) হজের জন্য বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নূরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, নিবন্ধন বাতিলকারী হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের টাকা কোন প্রকার কর্তন ব্যতিত ফেরৎ প্রদান করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক থেকে প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধনের অর্থ সরাসরি হজযাত্রীর একাউন্টে স্থানান্তর করা হবে। কোন হজযাত্রীর ব্যাংক হিসাব না থাকলে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী চেক/পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
ধর্ম সচিব বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য জমাকৃত অর্থ হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি ব্যাংক থেকে অথবা এজেন্সির মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রাক-নিবন্ধনের জন্য জমাকৃত অর্থ পূর্বের ন্যায় পরিচালক, হজ অফিস, ঢাকা থেকে হজযাত্রীর ইচ্ছানুযায়ী সরাসরি তাঁর ব্যাংক হিসাবে চেক এর মাধ্যমে অথবা এজেন্সির মাধ্যমে ফেরৎ প্রদান করা হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পবিত্র হজ বাতিলের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের করণীয় নির্ধারণ করতে বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় (অনলাইন) সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নূরুল ইসলাম।
সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, চলতি ২০২০ সালের পবিত্র হজের জন্য যারা নাম নিবন্ধন করেছেন তারা চাইলে আগামী ১৩ জুলাই থেকে নিবন্ধন বাতিল করে টাকা ফেরত নেয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে হজের নিবন্ধনের পাশাপাশি প্রাক নিবন্ধনও বাতিল হয়ে যাবে।
সভার পর ভিডিও বার্তায় ধর্মসচিব মো. নুরুল ইসলাম বলেন, হজের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন ও প্রাক নিবন্ধনের মতোই নিবন্ধন বাতিলের নতুন একটি সফটওয়্যারযুক্ত করা হবে আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে। ফলে আগামী ১৩ জুলাই থেকে যারা নিবন্ধন বাতিল করে টাকা ফেরত নিতে ইচ্ছুক তারা আবেদন করতে পারবেন।
এসময় তিনি জানান, কোন রকম চার্জ কর্তন ছাড়াই সরকারি ব্যবস্থাপনার যাত্রীদের সোনালী ব্যাংক থেকে চেক বা পে অর্ডারের মাধ্যমে ফেরত দেয়া হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীরা স্ব-স্ব এজেন্সির মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রনালয়ে নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করবেন। তারাও সরাসরি অথবা চেক কিংবা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা ফেরত নিতে পারবেন।
ধর্মসচিব বলেন, টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে যাতে কোন রকমের জটিলতা তৈরী না হয় তার জন্য ধর্ম মন্ত্রনালয় নিবীড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। হজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চিকিৎসা সরঞ্জামাদিক্রয়সহ অন্যান্য ক্রয়ের যেসব প্রক্রিয়া চলমান ছিল সেগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বাহির থেকে কোন দেশের হজযাত্রী এ বছরের হজ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন না। তবে সেদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্য থেকে সীমিত সংখ্যকদের নিয়ে পালিত হবে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় জমায়েতের এই আনুষ্ঠানিকতা।
এবার বাংলাদেশ থেকে ৬৪ হাজার ৫৯৪ জন হজে যেতে আগ্রহী ছিলেন। সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে তাদের হজে যাওয়া হচ্ছে না। সূত্র – বাসস।

