‘চীনের করোনা ভ্যাকসিনের ২য় ধাপের ট্রায়াল ও উতপাদন বাংলাদেশে!
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার ২৬ জুন ২০২০ । আপডেট ২৩:৫৫
চীনের তৈরি করোনা (কোভিড-১৯) প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল হতে পারে। এমনকি সেই সূত্রে ওই ভ্যাকসিনের উতপাদন বাংলাদেশে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।
শুক্রবার (২৬ জুন) হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘বাংলাদেশে করোনা: ছয় মাসের পর্যবেক্ষণ শীর্ষক’ ভার্চুয়াল কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল ও উতপাদনের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য করোনা মোকাবিলায় আরেক ধাপ সাফল্য বয়ে আনবে।
বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফের সঞ্চালনায় ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ও জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেনসহ বিশিষ্টজনেরা।
গত ২৩ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরকে দেয়া জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করে বক্তারা বলেন, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত একজন রোগী ১ দশমিক ৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।
তাদের ধারণা, দেশে করোনা সংক্রমণ পিকের (সর্বোচ্চ সংক্রমণ) কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। কোরবানি ঈদের সময় যদি মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে সংক্রমণ আরও বাড়বে।
বক্তারা করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং এর অধিদফতরগুলোতে নেতৃত্বদান ও সমন্বয়ের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, জনগণের সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাসও কম।
মহামারি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনার ঘাটতি, দক্ষ জনবল ও অবকাঠামোর অভাব, দেশি বিশেষজ্ঞদের ঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারাসহ বিভিন্ন দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তা্র কথা বক্তারা তুলে ধরেন।
করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশংকা প্রসঙ্গে ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আগে দেশে আক্রান্ত একজন থেকে আরও দুই জনের বেশি হারে এই ভাইরাস ছড়াতে পারতো। কিন্তু এখন সেই রিপ্রোডাকশন রেট বা ‘আর’ রেট নেমে এসেছে ১ দশমিক শূন্য ৫-এ। এটা খুবই ভালো লক্ষণ। এখন আরও নিচে নামাতে পারলে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যাবে। তাছাড়া এখনও প্রতিদিন সংক্রমণের যে সংখ্যা পাওয়া যাচ্ছে, তা অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, আমাদের দেশে ‘আর’ রেট হঠাৎ করে খুব উঁচুতে ওঠার মতো পরিস্থিতি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। আমাদের এখন লক্ষ্য ‘আর’ রেট-কে আরও নিচের দিকে নামিয়ে আনা।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশে গত ছয় মাস ধরে যে কার্যক্রম চলছে, সে ব্যাপারে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রথম থেকে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস মোকাবিলায় পরিকল্পনা গ্রহণ, কার্যক্রম বাস্তবায়ন, হাসপাতাল ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত গবেষণা, কেনাকাটাসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে নানা ধরনের ঘাটতি ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।
হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুরুর দিক থেকে এখন পরিস্থিতির (পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, হাসপাতাল ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা) অনেকটাই উন্নতি দেখা যাচ্ছে। তবু এখনও পর্যাপ্ত হচ্ছে না। এছাড়া, জোনিং সিস্টেম নিয়েও মানুষের এক ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে।

