বেতন নিয়ে কয়েকটি পোশাক কারখানা শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বেতন নিয়ে কয়েকটি পোশাক কারখানা শ্রমিকদের বিক্ষোভ
বেতনের দাবিতে গাজীপুর শহরে মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ করে আলিফ কজাল লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার ২৬ জুন ২০২০ । আপডেট ২২:২৬

অনেক পোশাক কারখানা শ্রমিকদের বেতন নিয়ে তালবাহানার অভিযোগ উঠেছে। বেতনের দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর আসছে। করোনা মহামারির মধ্যে সরকারের ব্যাপক প্রণোদনা সত্বেও বেতন নিয়ে এই দীর্ঘসূত্রিতা শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।

সরকার তৈরি পোশাক খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার স্বল্প সুদের ঋণ তহবিল দিয়েছে।

গাজীপুর শহরে আলিফ কজাল লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে শুক্রবার (২৬ জুন) মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। তারা শহরের ভোগড়া বাসন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ওই বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় ওই সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কারখানার এজিএম টিপু সুলতান গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর সময় শ্রমিকদের বেতনের জন্য সরকারের দেওয়া টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলনে দেরি হওয়ায় বেতন দিতে তাদের কিছুটা সময় লাগছে। রোববার (২৮ জুন) তাদের বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন ত্যাগ করে চলে গেছে।

তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সর্বশেষ শুক্রবার (২৬ জুন) দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ইতোমধ্যে এক হাজার ৮৫৫টি পোশাক কারখানা তাদের শ্রমিকদের মে মাসের বেতন পরিশোধ করেছে। বেতন দেওয়ার বাকি রয়েছে আরও ৭১টি কারখানা।

যেসব কারখানার বেতন বাকি রয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই আকারে ছোট বলে উল্লেখ করলেও সেগুলোর শ্রমিক সংখ্যার বিষয়ে কিছুই জানায়নি বিজিএমইএ্র। গত এপ্রিল মাসেও শতভাগ বেতন পরিশোধ করা হয়নি। 

গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর সময় বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত পোশাক কারখানা ছিল দুই হাজার ২৭৪টি। এর মধ্যে কারখানার সংখ্যা এক হাজার ৯২৬টিতে নেমে এসেছে। এদিকে করোনাভাইরাস সংকট শুরুর পর ৩৪৮টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

বিজিএমইএর তালিকায় দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীর ৩৩৩টি পোশাক কারখানার মধ্যে ৩১৪টি ইতোমধ্যে বেতন পরিশোধ করেছে, বাকি রয়েছে আরও ১৯টি। গাজীপুর অঞ্চলে ৭১৩টি কারখানার মধ্যে ৬৯৩টি বেতন দিয়েছে, বাকি রয়েছে ২০টি।

সাভার-আশুলিয়া এলাকার ৪১২টি কারখানার মধ্যে ৩৯৭টি বেতন পরিশোধ করেছে, বাকি রয়েছে আরও ১৫টি।

নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ১৯৮টি কারখানার মধ্যে ১৯৬টিতে বেতন দেওয়া হয়েছে, বাকি রয়েছে আরও দুটি।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২৫২টি কারখানার মধ্যে ২৪০টিতে বেতন পরিশোধ করা হয়েছে, বাকি রয়েছে আরও ১২টি কারখানা। এছাড়া অন্যান্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের ১৮টি কারখানার মধ্যে ১৫টিতে বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে শতকরা ৯৬ শতাংশ কারখানা বেতন পরিশোধ করেছে, বাকি রয়েছে ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ কারখানা। পরিসংখ্যনগত ভাবে বেতন বাকী মাত্র ৩.৭০% কারখানার হলে, এদের শ্রমিক সংখ্যা একেবারে কম নয়। তাছাড়া ওই শ্রমিকেরা পুরোপুরি বেতনের উপর নির্ভরশীল। বেতন না পেয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

বিজিএমইএর হিসাবে চলতি জুনের ১৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করতে পেরেছিল ১ হাজার ৭৩১টি পোশাক কারখানা। বিগত সাত দিনে বেতন দিতে পেরেছে আরও ১২৪টি কারখানা কর্তৃপক্ষ।

এপ্রিল মাসে ৯৮ শতাংশ কারখানা বেতন দিয়েছিল। মে মাসেও সেই সংখ্যক কারখানা  শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করতে পারবে বলে আশা করছেন বিজিএমইএর জনসংযোগ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান খান মনিরুল আলম শুভ। এমনটাই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ পোশাক কারখানা এপ্রিলের পর মে মাসের বেতনও সরকারের দেওয়া ৫ হাজার কোটি টাকার স্বল্প সুদের ঋণ তহবিল থেকে দিয়েছে। জুন মাসের বেতনও একইভাবে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

প্রণোদনা তহবিলের ঋণের জন্য আবেদন করেছিল ১ হাজার ৩৭০টি কারখানা। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি ঋণ পাওয়ার জন্য বিবেচিত হয়নি।

SekFaruk

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading