তিস্তার পানি বিপদ সীমার উপরে, খুলে দেওয়া হলো ব্যারাজের সব গেট

তিস্তার পানি বিপদ সীমার উপরে, খুলে দেওয়া হলো ব্যারাজের সব গেট

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার ২৮ জুন ২০২০। আপডেট ১১:৪৫

ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে তিস্তা নদী সংলগ্ন চরগ্রামগুলো বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) থেকে ওই পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৫-২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় স্লুইস গেট খুলে দেয়া ছাড়া বিকল্প ছিলো না বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ডিমলা, জলঢাকা ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইস গেট খুলে রাখা হয়েছে।

এর পাশাপাশি উপজেলার চড়খড়িবাড়ী ইউনয়নের একটি ক্রস বাঁধ (স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত) হুমকির মুখে পড়েছে।

পাউবো’রভউপ-সহকারী প্রকৌশলী (পানি শাখা) আমিনুর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ব্যারাজের সব গেট খুলে রাখায় ভাটি এলাকার খালিশা চাঁপনী ও বাইশপুকুর চর প্লাবিত হয়ে বাড়িঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের মাছের খামার ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। আবার অনেকেই গবাদি পশু, হাঁস মুরগি উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে। এছাড়া ২০টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।

এদিকে, তিস্তার বন্যায় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় ১০টি চর ও চর গ্রামের ৮ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অন্য একটি সূত্র জানায়, ইন্ডিয়া থেকে নেমে আসা ঢল  ও অনবরত বৃষ্টির ফলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে এই অবস্থা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) দুপুরের দিকে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

SekFaruk

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading