হানিফের পরিবারের কেউ ‘কানাডা’র নাগরিক নন’
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার ২৮ জুন ২০২০ । আপডেট ১১:৪০
কানাডায় বসবাসরত ছেলে, স্ত্রী, ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য করোনা মহামারির মধ্যে দেশ ছাড়েন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। এ নিয়ে বিএনপিসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই সমালোচনা করেন। এর জবাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হানিফ জানিয়েছেন, কানাডায় তার পরিবারের কোনও সদস্য নাগরিক নন, এমনকি নগরিকত্বের জন্য তারা কেউ আবেদনও করেননি।
চলতি মাসের ১৯ তারিখ রাতে কানাডার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন মাহবুব-উল আলম হানিফ। এর পর গত কয়েকদিন ধরে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলে। বিষয়টি নিয়ে শনিবার (২৭ জুন) রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে যোগ দিয়ে কানাডা যাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার করেন আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা।
সেখানে তিনি জানিয়েছেন, কানাডা সরকারের অনুমতি নিয়েই তিনি দেশটিতে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। একইসঙ্গে আক্ষেপ করে বলেছেন, রাজনীতি করি বলে পরিবারের প্রতি কোনো দায়িত্ব থাকবে না- এটা তো হতে পারে না। এসময় হানিফ আরও জানান, তিনি এবং তার পরিবারের কেউ কখনো কানাডা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেননি। সুতরাং তারা কেউ সেখানকার নাগরিক নন।
আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ বলেন, ‘শুরু থেকেই আমি নিজে ওখানে ছিলাম, আমার নিজ এলাকায় গিয়েছি একাধিকবার। করোনা যখন বাংলাদেশে আক্রান্ত হলো- তখন নিজ জেলা কুষ্টিয়া আমি গিয়েছি। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চিকিৎসকদের নিয়ে মিটিং করেছি। হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব ছিল না, একটা পিসিআর ল্যাবের ব্যবস্থা করেছি ৭দিনের মধ্যে।
এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি করোনাকালীন সময় সেখানে চারবার গিয়েছি। এলাকার মানুষের পাশে যতটুকু দাঁড়ানো যায় একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমরা চেষ্টা করেছি।
হানিফ বলেন, ‘আমার বাচ্চারা লেখাপড়া করে এখানে (কানাডা)। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর যখন সারাদেশে তাণ্ডব শুরু হলো সেই সময়ে কিন্তু আমার উপরে একাধিকবার বোমা হামলা হয়েছে। কারণ, আমি সেখানে ছিলাম খুব সোচ্চার, খুব ভোকাল হিসেবে যুদ্ধাপরাধী বিএনপি-জামায়াতের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলাম। সেই সময়ে তারা হুমকি-ধামকি বোমাবাজি করেও যখন আমাকে বিরত রাখতে ব্যর্থ হলো তখন টেলিফোনে হুমকি দেয়া হয়েছিল। আমার বড় ছেলে তখন স্কলাস্টিকায় পড়তো তাকে ওখান থেকে কিডন্যাপ করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘সেই সময় আমাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে যেহেতু আমার ভাই এবং দুই বোন থাকেন কানাডায়। আমার বড় ভাই থাকেন সিক্টিইজ আর আমার দুই বোন থাকেন প্রায় ৩০ বছরের উপরে। তাই তখন বলেছিলেন পরিবারকে এখানে পাঠিয়ে দিতে। কারণ, বাচ্চাদেরকে এ রকম ঝুঁকির মুখে রাখা ঠিক হবে না। তখন আমার বাচ্চাদেরকে আমি এখানে (কানাডা) পাঠিয়ে দেই, এখানকার স্কুলে ভর্তি হয়। স্কুল থেকে আমার বড় ছেলে গ্রাজুয়েশন শেষ করে এখন সে জবে আছে। আগামী বছর থেকে আবার মাস্টার্সে ভর্তি হবে।’
আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমার স্ত্রী এখানে আসে আমার সন্তানদের দেখার জন্য। এর মধ্যেই এবার আসার পরে সে আটকা পড়ে। আমার স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়েছিলাম। থাইরয়েডের সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। এখানে চিকিৎসকরা দেখার পরে আগামী ২৯ জুন তাকে আবার সময় দিয়েছে।
হানিফ আরও বলেন, আমি এবং আমার পরিবারের কেউই কিন্তু কখনো কানাডার নাগরিকের জন্য আবেদন করিনি। আপনারা দেখেছেন এখানে একটা ক্লজ যে শেষের দিকে ছিল যেখানে কানাডিয়ান সরকার উল্লেখ করেছেন মাইনর যাদের আছে, তাদের যারা গার্ডিয়ান আছে তারা কিন্তু আসতে পারবে। যেহেতু সংসদ সদস্য হিসেবে আমি ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট হোল্ডার এবং আমার বাচ্চারা এখানে থাকে। তারা মাইনর হিসেবে অ্যাপ্লাই করেছিল তারা এখানে থাকে, তাই আমরা আসি। তখন কানাডিয়ান গর্ভমেন্ট থেকেই আমাকে এপ্রুভাল দিয়েছিল আসার জন্য।

