মাস্ক পরার জন্য ‘চাপের মুখে’ ট্রাম্প!
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার ২৯ জুন ২০২০। আপডেট ১৫:২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাস্ক পরে উদাহরণ সৃষ্টির জন্যে দ্বিপক্ষীয় তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন। এদিকে তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, কনজারভেটিভ নেৃত্বতাধীন রাজ্যগুলোতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
আমেরিকার অর্ধেকেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলো করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত।
আমেরিকায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ২৬ লাখ ছাড়িয়েছে। মারা গেছে ১ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি লোক। এ অবস্থায় আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন মহল থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু এ পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাস্ক পরেননি। তিনি মাস্ক না পরার ঘোষণা দিয়ে তা শুরু থেকে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। কিন্তু পরিস্থিতি দিনে দিনে ভয়াবহ রূপ নেয়ায় নতুন করে চাপের মুখে আছেন ট্রাম্প।
স্বাস্থ্য ও মানব সেবামন্ত্রী এলেক্স আজার সিএনএনকে বলেন, পরিস্থিতি খুবই মারাত্মক। করোনা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ শেষ হয়ে আসছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেন জনসম্মুখে মাস্ক পরে উদাহরণ তৈরিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, বিশেষ করে মাস্ক পরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টাদের পাশে দাঁড়িয়েও তিনি পরছেন না। আর হোয়াইট হাউস থেকে বারবার ব্যখ্যা দেয়া হচ্ছে যে, তিনি প্রতিদিন করোনার পরীক্ষা করাচ্ছেন।
সাধারণত প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করতে অনাগ্রহী অনেক রিপাবলিকানই মাস্ক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। এদের কেউ কেউ আবার প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন মাস্ক পরে উদাহরণ তৈরি করতে। রিপাবলকিান সিনেটর লামার আলেক্সজান্ডার রোববার সিএনএনকে বলেছেন, স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞরা আমাদের বলছেন- মাস্ক পরা গুরুত্বপূর্ণ। যদি তাই হয়, তবে প্রেসিডেন্ট যদি মাস্ক পরতেন তাহলে আমরা রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে মুক্তি পেতাম!
রাজনৈতিক বিতর্কটি হলো- যদি ট্রাম্পের পক্ষে থাকো তবে তুমি মাস্ক পরবে না। আর যদি বিপক্ষে থাকো তাহলে মাস্ক পরবে। আমেরিকার অনেক এলাকাতেই মাস্ক পরা না পরা স্বাস্থ্য সুরক্ষার চেয়ে রাজনৈতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দেশটির সংবাদ মাধ্যম সিএনএন’র খবরে বলা হয়েছে।
এদিকে কিছু ডেমোক্রেটরাও চাচ্ছেন ট্রাম্প কেবল উদাহরণই সৃষ্টি করবেন না বরং তিনি দেশব্যাপী মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করবেন।

