২০ কোটি নয়, ‘২ মাসে থাকা-খাওয়ার খরচ হওয়ার কথা ২৬ কোটি’!
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার ০১ জুলাই ২০২০। আপডেট ১৬:০০
কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকদের এক মাসে খাবার খরচ ২০ কোটি টাকার যে খবর বলা হচ্ছে ‘সেসব তথ্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। এমন দাবি করে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসিরউদ্দিন জানালেন, জনপ্রতি তিনবেলা খাবার খরচ ছিল ৫০০ টাকা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকসহ সব স্বাস্থ্যকর্মী, কর্মকর্তা ও আনসারের ২ মাসে হোটেলে থাকা-খাওয়ার খরচ ২৬ কোটি টাকা হওয়ার কথা।’
বিষয়টি নিয়ে ২৯ জুন, মঙ্গলবার জতীয় সংসদে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তদন্তের নির্দেশনা দেয়ার পর এমন বক্তব্য এলো ঢাকা মেডিকেলের পরিচালকের পক্ষ থেকে। বুধবার (০১ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘২২৭৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীর এক মাস হোটেলে থাকা-খাওয়া বাবদ খরচ হয়েছে ভ্যাট ছাড়া ১১ কোটি ৮৬ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা। আর ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ খরচ পড়েছিল ১৩ কোটি ৬৪ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৭ টাকা।’ তিনি জানান, ‘চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের দুই মাস হোটেলে থাকা খাওয়া ও পরিবহনের খরচ ২৬ কোটি টাকা হওয়ার কথা। এর বাইরে ২২৭৬ জনের যাতায়াতে এক মাসে খরচ হয় ৪৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮৭০ টাকা। এর আগে একমাসের খরচ হিসাব করে দুই মাসের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল। এরপরই এই বরাদ্দ দেওয়া হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বিল্লাল আলম বলেন, ‘এক মাসে ২০ কোটি টাকার খাবার খেয়েছেন সংবাদ মাধ্যমে এই প্রচারে হতোদ্যম হয়ে পড়েছেন চিকিৎসকরা। এটা তাদের আহত করেছে।’ স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি হয় উল্লেখ করে তার ভাষ্য, ‘তার সঙ্গে চিকিৎসকরা যুক্ত নন। এসব দুর্নীতির তদন্ত হোক, প্রতিকার হোক।’
এর আগে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের খাওয়ার খরচ ২০ কোটি টাকা- এমন একটি খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সোমবার (২৯ জুন) বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের খাবারের বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা এসেছে শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শিগগিরই এ ঘটনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এক মাসে ২০ কোটি টাকা খাবারের বিল, এটি অস্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। এটি আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। এত অস্বাভাবিক কেন হবে? যদি কোনও অনিয়ম হয়, অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেবো।’
এর পরের দিন মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়ার বিষয় নিয়ে যে কথা হয়েছে আমি খোঁজ নিয়েছি। ৫০টি হোটেল ভাড়া হয়েছে। সেখানে তিন হাজার ৭শ’ মানুষ এক মাস থেকেছেন। প্রত্যেকটি রুমের ভাড়া ১১০০ টাকা। খাওয়ার খরচ যেটা বলা হয়েছে তা টোটালি রং। সেখানে দিনের তিনটি মিলের জন্য ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে।’

