করোনা শনাক্ত ও মৃত্যু: চট্টগ্রামে হার বেশি?
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০ আপডেট ১৪:৩৫
সারাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় গড়ে ১৯ দশমিক ০৩ শতাংশ পজিটিভ ফল এলেও চট্টগ্রামে এই হার অনেক বেশি, ৩১ শতাংশ। সেই সঙ্গে মৃত্যুর হারও অন্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি চট্টগ্রামে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে এমনটা জানা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরসহ উপজেলাগুলোতে গত তিন মাসে প্রায় ২৮ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি পাওয়া গেছে ৮ হাজার ৮৫২ জন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৫৫০ জনই শনাক্ত হয়েছেন গত এক মাসে। তবে আরও কিছু দিনের পরীক্ষার হিসাব দেখে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবে বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী।
চট্টগ্রাম জেলায় গত ২৫ মার্চ ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি ল্যাবে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু হয়। এরপর ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলায় সর্বপ্রথম করোনাভাইরাসে শনাক্ত ব্যক্তি ধরা পড়ে। একটি ল্যাব দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে সরকারিভাবে চারটি, বেসরকারি দুটি হাসপাতাল এবং কক্সবাজারের একটি ল্যাবে চট্টগ্রাম জেলার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।
বিআইটিআইডি ছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস (সিভাসু), বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ও শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মহানগরসহ চট্টগ্রাম জেলায় ৩০ জুন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৭ হাজার ৯৫৯টি। এর মধ্যে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৮৫২ জন। পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
অথচ সারা দেশে বুধবার পর্যন্ত ৭ লাখ ৮৪ হাজার ৩৩৫টি নমুনা পরীক্ষা করে আক্রান্ত পাওয়া গেছে এক লাখ ৪৯ হাজার ২৫৮ জন। নমুনা পরীক্ষার হিসেবে সারা দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার প্রায় ১৯ দশমিক ০৩ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, আমরা ধরে নিচ্ছি চট্টগ্রাম জেলার মানুষজন স্বাস্থ্যবিধি কম মানছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে কল-কারখানা বেশি, এখানকার সাথে আন্তঃজেলার যোগাযোগও বেশি। এ কারণে মানুষজনের যাতায়াতও মানে আসা-যাওয়ার হারও বেশি। লোকজনের বেশি আনাগোনার কারণে সংক্রমণও বেশি হতে পারে।
সিভিল সার্জন ফজলে রাব্বী করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষায় সবার সচেতন থাকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে চট্টগ্রামে গত তিন মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ১৭৮ জন, মৃত্যুর হার ২ দশমিক ০১ শতাংশ। চট্টগ্রাম মাহনগরীতে মৃতের সংখ্যা ১৩৪ জন এবং ১৪ উপজেলায় এ সংখ্যা ৪৪ জন। অথচ সারাদেশে এ ভাইরাসে বুধবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৮৮৮জন, শতকরা হিসেবে এ হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। অপরেদেক, চট্টগ্রাম জেলায় এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৬৫ জন। সূত্র: বিডিনিউজ।

