আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি খুরশীদ করোনায় আক্রান্ত
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০ আপডেট ১৭:৫৩
ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি এবিএম খুরশীদ করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি এখন রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক সপ্তাহ যাবত এবিএম খুরশিদের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে মিরপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার নমুনা নিয়ে পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়ে। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়”
গতকাল (বুধবার, ০১ জুলাই)) তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিকাল ৫টার দিকে তাকে আইসিইউ সাপোর্টে নেয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিতসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
ততকালীন পাকিস্তান সরকার যখন ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করেন তখন এবিএম খুরশিদ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন পদে কর্মরত ছিলেন। স্বাধীনতা পর নৌবাহিনীর চাকরী ছেড়ে তিনি পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন
পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মরত ও প্রাক্তন সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করে তা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত। এ মামলায় বঙ্গবন্ধু সহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তারা ভারত সরকারের সহায়তায় সশস্ত্র অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ততকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা শহরে ভারতীয় পক্ষ ও আসামি পক্ষদের মধ্যে এ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ থাকায় একে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বলা হয়।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে এ মামলা এবং এর প্রতিক্রিয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ততকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার অচিরেই মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

