বিশিষ্ট সাংবাদিক ফারুক কাজীকে নিয়ে নয়াদিল্লি থেকে আমিনুল মির্জার স্মৃতিচারণা
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২০ আপডেট ১৮:২৩
আমিনুল মির্জা, নায়াদিল্লি থেকে
ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে যে, ফারুক ভাই (বিশিষ্ট সাংবাদিক ফারুক কাজী) আর আমাদের মাঝে নেই। শুক্রবার সকাল ৮টায় (০৩ জুলাই) তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন বহুদুর। ঘুম থেকে উঠেই ফেসবুকে পাশা ভাইর (কাজী রশিদুল হক পাশা) একটা পোস্ট দেখে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। বুকের মধ্যে একটা চাপ অনুভব করলাম।
আপাদমস্তক ভদ্রলোক ফারুক ভাইর মৃত্যু মেনে নেয়া খুবই কষ্টকর। ফারুক ভাইর সাথে আমার প্রথম কাজ করার সুযোগ হয়েছিল বাংলার বানী পত্রিকায় ১৯৯০-৯১ সালের দিকে।
তারপর ১৯৯৬ সনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পরে উনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) যোগদান করেন। ওনার বছর খানেক আগে আমি বাসস-এ যোগদান করি। বাসস-এ ফারুক ভাই ও আমি পাশাপাশি সিটে বসতাম। তখন কাজের ফাঁকে আমাদের দু’জনের মধ্যে অনেক কথা হতো।
অফিসে কখনো ওনাকে আড্ডা দিতে দেখেনি। উনি ওনার কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন সবসময়। এক কিংবা দেড় বছর পরে, উনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী অফিসে যোগদান করেন এবং বাসস ছেড়ে দেন।
পি,এম,ও থেকে পরবর্তীতে বাংলাদেশের নিউদিল্লি দুতাবাসে মিনিস্টার (প্রেস) পদেও কাজ করেন। অত্যন্ত ভদ্রলোক, সদালাপী, সৎ, নিরহংকারী, কাজপাগল মানুষ ছিলেন ফারুক কাজী ভাই, যার মধ্যে কোনদিন কোনো দুই নাম্বারি দেখি নাই। ইচ্ছা করলে তার পদ পদবী ব্যবহার করে অনেক ধান্ধা করতে পারতেন, কিন্ত তিনি তা কখনো করেননি।
এমনকি যখন কষ্টে ছিলেন তখনও কারও কাছ থেকে কোনরকম “আনডিউ প্রিভিলেজ” নেন নি।
তিনি এবং তার বড় ভাই বিশিষ্ট নাট্যকার ও সিনিয়র সাংবাদিক কাজী রশিদুল হক পাশা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা। কুষ্টিয়ার সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাদের জন্ম। ফারুক ভাইর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর কাছে এই দোয়াও করছি, হে আল্লাহ আপনি ফারুক ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
আমিন।
আমিনুল মির্জা : আবাসিক প্রতিনিধি, বাসস, নায়াদিল্লি।

