ইন্ডিয়াকে পাল্টা সতর্ক করলো চীন
উত্তরদক্ষিণ । ০৩ জুলাই ২০২০ । আপডেট : শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০ । ১১:২৩
ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেদিন (শুক্রবার, ০৩ জুলাই) বিরোধপূর্ণ লাদাখ সীমান্ত পরিদর্শন করছেন, সেদিনই বেশ কড়া ভাষায় সতর্কতা জানালো চীন। দু’দেশের সীমান্তে শান্তি সমুন্নত রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বেইজিং বলছে, দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতার ওপর যেকোন কৃত্রিম বাধা ইন্ডিয়ার স্বার্থের ক্ষতির কারণ হবে।
শুক্রবার (০৩ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইন্ডিয়ায় চীনের বাণিজ্যিক অধিকার বজায় রাখতে বেইজিং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
জুন মাস জুড়ে লাদাখ সীমান্তে ইন্ডিয়া ও চীনা সেনাদের মধ্যে উত্তেজনার পর গত ১৫ জুন (সোমবার) উভয় পক্ষ সংঘাতে জড়ায়। এতে ভারতের কমপক্ষে ২০ সেনা নিহত ও অপর ৭৬ জন আহত হয়। ইন্ডিয়া দাবি করে আসছে, চীনের অন্তত ৪৫ জন হতাহত হয়েছে। তবে চীন সরকারিভাবে কোনও হতাহতের খবর জানায়নি। দু দেশ-ই একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।
বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটক সহ চীনের তৈরি ৫৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে ইন্ডিয়া সরকার। আর চীন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, দিল্লির এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতিমালার লঙ্ঘন।
এই মাসের শুরুতে ভারতের রেডিও শো ‘মন কি বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘লাদাখে যারা ভারতীয় সীমান্তের দিকে চোখ তুলে তাকাবে তাদের যথাযোগ্য জবাব দেওয়া হবে।’ শুক্রবার (০৩ জুলাই) তিনি গত ১৫ জুন লাদাখের সংঘাত স্থল পরিদর্শনে যান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এক হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় লাদাখের নিমো সেনাঘাঁটি পরিদর্শনের পর সেদিনের সংঘাতে আহত সেনাদের সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যান। সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে এবং প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত এ সময় মোদির সঙ্গে ছিলেন।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইন্ডিয়া ও চীন একাধিকবার সেনা ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনায় অংশ নিলেও অগ্রগতি হয়েছে খুবই সামান্য।

