অজানা কারণে শত শত বন্যহাতির মৃত্যু, মহামারীর আশঙ্কা!
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০ । ১১:৫৫
আফ্রিকার বতসোয়ানায় গত দু’মাসের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে তিনশ হাতির। কিন্তু কীভাবে প্রাণিগুলো মারা গেল, তা জানে না কেউ।
উত্তর বতসোয়ানার ওকাভাঙ্গো ব-দ্বীপে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম- বিবিসি। সংবাদে হাতি মৃত্যুর কারণ নিয়ে দেশটির সরকার কিছুই জানে না বলেও উল্লেখ করেছে বিবিসি।
তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, হাতিরা কোনো অজানা রোগের শিকার হয়েছে। সাধারণভাবে আফ্রিকা মহাদেশে হাতির সংখ্যা কমছে বেশ কিছুদিন ধরে। মূলত চোরাশিকারীদের হাতেই মারা পড়ছে হাতিরা। কিন্তু বতসোয়ানার ছবিটা অন্য। সেখানে গত দুই দশকে হাতির সংখ্যা ৮০ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার হয়েছে।

জানা গেছে, হাতিগুলো মারা যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, হাতিগুলোর সঙ্গে আসলে কী হয়েছিল তা জানতে আরো কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বতসোয়ানা সরকার।
আফ্রিকার মহাদেশের বিচরণ করা বন্য হাতির এক-তৃতীয়াংশ বসবাস করে বতসোয়ানায়। এ বছরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে হাতিগুলো মারা যাওয়ার খবর প্রকাশ পায়।
স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা ব-দ্বীপটিতে বিমান ভ্রমণের সময় হাতির মরদেহ দেখতে পায় বলে বিবিসিকে জানায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল পার্ক রেসকিউর কর্মকর্তা নিয়াল ম্যাককান। তাৎক্ষণিক বিষয়টি দেশটির সরকারকে অবগত করা হয় বলেও দাবি করেন ম্যাককান। জানান, ওই সময় ১৬৯টি হাতির মরদেহ দেখতে পান তারা।

হাতি মারা যাওয়ার ধরণ দেখে ম্যাককান বলেন, হাতিগুলো সম্ভবত স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া কোনো ধরণের আক্রমণের শিকার হয়েছে। ঘটনাস্থলে মৃত হাতিগুলোকে মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে দেখা গেছে। অন্যগুলোকে চক্রাকারে ঘুরতে দেখা গেছে। বিপুল পরিমাণ হাতির মৃত্যুকে পরিবেশগত বিপর্যয় হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। যা এক সময়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দুর্যোগে রূপান্তর হওয়ার আশঙ্কাও করছেন ম্যাককান।
ম্যাককানের ধারণা, মাটি থেকে কিংবা পানির উৎস থেকে বিষক্রিয়া থেকেও হতে পারে। আবার মানুষের মধ্যে সংক্রামিত কোন রোগের কারণে হতে পারে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ প্রাণীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে আশংকা তার।

