‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বিতরণ কোম্পানিগুলো

‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বিতরণ কোম্পানিগুলো

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০ । ১৪:৫০

করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে গ্রাহকের হাতে বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিলের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। তদন্তের ভিত্তিতে এরইমধ্যে ঢাকার দুই বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডিপিডিসি ও ডেসকোর কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং বেশ কয়েকজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।

অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিদ্যুৎ বিলের গড়মিলের তদন্তও শেষ হয়েছে, সেখানেও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের ঘটনায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) চারজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার কথা জানিয়েছেন কোম্পানির পরিচালন বিভাগের অন্যতম পরিচালক এটিএম হারুন উর রশীদ। এছাড়া আরও ৩০ জন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের আরেক কোম্পানি ডেসকোর প্রধান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন বলেছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিটার রিডিং নিয়ে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এজন্য দুইজন মিটার রিডারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আরও পাঁচজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে না পারলে তাদেরকেও অব্যাহতি দেওয়া হবে।

এর বাইরে অন্যান্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোরও তদন্ত শেষ হয়েছে জানিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব সুলতান আহমদ শনিবার (০৪ জুলাই) গণমাধ্যমকে বলেন, তদন্তের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের ৩ কোটি ৬৮ লাখ গ্রাহকের মধ্যে দশমিক ০১ শতাংশ গ্রাহক তাদের বিল নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তবে একজন গ্রাহকের অভিযোগ আসলে সেটাও স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া হচ্ছে না। সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাগুলোর কাছে ভুল সংশোধন করতে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ডিপিডিসির পরিচালক হারুন উর রশীদ বলেছেন, গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল নিয়ে যত অভিযোগ ছিল, গণশুনানি করে ‘সবগুলোর সমাধান’ করে দিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, এর মধ্যে অনেক অভিযোগ সঠিক ছিল না। আমরা তাদেরকে সেটা বুঝিয়ে বলেছি। আর যাদের অভিযোগ সঠিক ছিল সেগুলো নানা উপায়ে সমাধান করে দেওয়া হয়েছে। অনেক গ্রাহকের কাছে বিল কমও গেছে। মে মাসের হিসাবের সময় তা অ্যাডজাস্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ডেসকোর প্রধান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন জানান, তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে ৯৭২ জন গ্রাহকের বিল দ্বিগুণ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের ৮৬ ভাগ অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করে দিয়েছেন। যারা বেশি টাকা দিয়েছেন তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আবার বিল বেশি হয়েছে বলে অনেক অভিযোগের সত্যতা ছিল না। সূত্র – বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading