না ফেরার দেশে এন্ড্রু কিশোর

না ফেরার দেশে এন্ড্রু কিশোর
গায়ক এন্ড্রু কিশোর

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০ । আপডেট ২০:৩০

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, ডাক দিয়েছেন দয়াল আমারে, সবাই তো ভালবাসা চায়- এমন অনেক জনপ্রিয় গান নিয়ে গত শতকের ৮০ দশক থেকে শুরু করে টানা এক যুগের বেশি সময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গানের জগতে ছিল তার রাজত্ব। কিন্তু বিনোদন জগতের তার সেই রাজত্বে বাধা হয়ে আসে ব্লাড ক্যান্সার। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ৯ মাস ধরে ভুগছিলেন তিনি। বিদেশ থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে ছিলেন রাজশাহীতে বোনের বাড়িতে।

সেখানেই সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। গণমাধ্যমকে এ তথ্য দিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ।

মৃত্যুকালে এন্ড্রু কিশোরের বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। তিনি দুই সন্তান রেখে গেছেন।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক শেকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এন্ড্রু কিশোর তার গানের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

এন্ড্রু কিশোরের জন্ম ১৯৫৫ সালে; ছোট বেলা থেকেই সঙ্গীতে অনুরক্ত ছিলেন তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্র রাজশাহী বেতারে তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন।

এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে গান গাওয়া শুরু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে; মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রে আলম খানের সুরে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। এরপর বাদল রহমানের এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীতেও কণ্ঠ দেন তিনি। ১৯৭৯ সালে প্রতিজ্ঞা চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গান গাওয়ার পর আর পেছনে ফিরতে হয়নি তাকে।

তার গাওয়া সবাই তো ভালবাসা চায়, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা- এমন অনেক গান এখনও মানুষের মুখে ফেরে। গান গেয়ে আটবার জাতীয় চলচ্চিত পুরস্কার জেতেন তিনি।

৯০ এর দশকের শেষ দিক পর্যন্ত চলচ্চিত্রের গানে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তার। ওই সময়েও তার গাওয়া পড়ে না চোখের পলক গানটি ছিল তুমুল জনপ্রিয়। বেশ কিছু দিন অসুস্থ থাকার পর এন্ড্রু কিশোরের ক্যান্সার ধরা পড়ে। গত বছর সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসা শেষে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ১১ জুন তার দেশে ফেরার কথা থাকলেও ১০ জুন এক পরীক্ষায় তার শরীরে আবারও লিম্ফোমার অস্তিত্ব মিলে।

সিঙ্গাপুরে ৯ মাস ধরে চিকিৎসা নিয়ে গত ১১ জুন দেশে ফিরে জন্মস্থান রাজশাহীতে বোন শিখা বিশ্বাসের ক্লিনিকে ভগ্নিপতি ও চিকিৎসক প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ছিলেন এন্ড্রু কিশোর। প্যাট্রিক বিশ্বাস ক’দিন আগেই গ্লিটজকে জানিয়েছিলেন, এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। লিম্ফোমা ফিরে আসায় তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। তার জন্য প্রার্থনা করা ছাড়া আর উপায় নেই। এর পরই এলো তার চির বিদায়ের খবর।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading