ফুডপান্ডার ডেলিভারি অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১০:৪৫
ফুডপান্ডার ডেলিভারি অফিস ঘেরাও করে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেছেন ডেলিভারি রাইডাররা। জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক এই কোম্পানিটির সিলেট অফিস ঘেরাও করে বেতন-ভাতাসহ সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেয়ার প্রতিবাদ ও বিভিন্ন দাবি আদায়ে তারা এই বিক্ষোভ করেছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (০৬ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিলেট নগরের জেল রোডে ফুডপান্ডা ডেলিভারি অফিসের সামনে কোম্পানিটির প্রায় দুই শতাধিক ডেলিভারি রাইডার বিক্ষোভ করেন। পরে ফুডপান্ডা সিলেট অফিসের ব্যবস্থাপক এলাহী ইমন রাইডারদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের শান্ত করেন।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) বেলা ৩টায় রাইডারদের দাবিগুলো লিখিতভাবে সিলেট অফিসে নিয়ে আসার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, তখনই এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এর সমাধান করব। এরপর তারা অফিসের সামন থেকে চলে যান।
এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ফুডপান্ডা সিলেট অফিসের ব্যবস্থাপক এলাহী ইমন বলেন, কয়েকজন রাইডার বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাতে অফিসের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। তাদের বলেছি দাবিগুলো লিখিতভাবে নিয়ে আসেন। ন্যায্য কোনো দাবি থাকলে তা আমরা মেনে নেব।
এ নিয়ে ফুডপান্ডার এক ডেলিভারি রাইডার গণমাধ্যমকে বলেন, সিলেটে প্রায় চার হাজার নিবন্ধিত ডেলিভারি রাইডার আছেন। প্রতিদিন গড়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন ১৫০ থেকে ২০০ জন। তবে মাঠপর্যায়ে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে অফিসের ফোন নম্বরে কল দিলে কেউ রিসিভ করেন না। অনেক সময় আবার অন্য রাইডাররা ফোন রিসিভ করে দুর্ব্যবহার করেন। যা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম পরিপন্থী। কিন্তু অফিসের দু-একজন কর্মকর্তার অসৎ প্রশ্রয়ে তারা এসব করছেন।
তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, যারা টানা ১৪ দিন কাজ করে তাদের রেটিং পয়েন্ট কমিয়ে দিয়ে তিনে নামিয়ে দেয়া হয়। আবার যে মাত্র একদিন কাজ করল তাকে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে রেটিং পয়েন্টে এক নম্বরে এনে দেয়া হয়। এর ফলে যে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে সে পায় কম পারিশ্রমিক আর যে কম কাজ করে সে পায় বেশি পারিশ্রমিক। এছাড়া যাতায়াত খরচও কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে রাইডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য রাতে আমরা অফিসের সামনে এসে দাবি-দাওয়া জানিয়েছি। তখন ম্যানেজার স্যার আমাদের দাবির বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় কথা বলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়ায় আমরা চলে এসেছি।

