রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক, কে এই সাহেদ?
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১৬:৪৫
করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অভিযোগে সিলগালা করে দেয়া রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ডা. মো: শাহেদ আহমেদ সম্পর্কে ‘চাঞ্চল্যকর’ তথ্য দিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র্যাব।
গতকাল থেকেই ফেসবুকে অনেকে মো: শাহেদের বহু ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে দেখা গেছে। এমনকি বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতার সাথেও তার ছবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে।
এর পর আজ বুধবার (৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব’র মুখপাত্র সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, “বাংলাদেশের হর্তা-কর্তা ব্যক্তিদের সাথে সে ছবি তুলেছে। এটা আসলে তার একটা মানসিক অসুস্থতা। ওই ছবি তোলাকে কেন্দ্র করেই সে প্রতারণা করতো।”
ডা. মো: শাহেদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে- র্যাব মুখপাত্র বলেন, “প্রতারকদের কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তারা যখন যার নাম পারে তখন সেটা বেচে নিজের জীবনকে অগ্রগামী করার চেষ্টা করে।” র্যাব কর্মকর্তা কাশেম বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক ও চেয়ারম্যান মো: শাহেদ বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ‘প্রতারণাই ছিল তার প্রধান ব্যবসা,’ বলেন র্যাব কর্মকর্তা।
এমএলএম কোম্পানির মাধ্যমে মানুষের সাথে আর্থিক প্রতারণার জন্য এর আগে শাহেদ কারাগারেও গিয়েছিল বলে তথ্য দিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করার জন্য গতরাতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। তাকে দ্রুত আটক করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন র্যাব কর্মকর্তা কাশেম।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে ভুয়া পরীক্ষা এবং নানা অপকর্মের মাধ্যমে শাহেদ কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। র্যাব কর্মকর্তা বলেন, “গত তিনমাসে সে আমাদের হিসাব মতে প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি টাকা অবৈধভাবে মানুষের কাছ থেকে অপকর্মের মাধ্যমে নিয়েছে।”
র্যাব-এর তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস টেস্ট করারা জন্য রিজেন্ট হাসপাতাল প্রায় ১০ হাজার মানুষের নমুনা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু সেগুলো পরীক্ষা না করেই রোগীদের ভুয়া ফলাফল দেয়া হয়েছে। র্যাব জানিয়েছে, ৪৫০০ ভুয়া টেস্টের কাগজপত্র তাদের হাতে এসেছে।
র্যাবের মুখপাত্র বলছেন, টেস্টের ভুয়া ফলাফল তৈরি করা হয়েছে রিজেন্ট হাসপাতালের কম্পিউটার সিস্টেমে। প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার অপারেটরদের দ্বারা ভুয়া ফলাফল তৈরি করতে বাধ্য করেছে হাসপাতালটির চেয়ারম্যান শাহেদ।
যেসব কম্পিউটার অপারেটরদের বাধ্য করিয়ে এসব ভুয়া ফলাফল তৈরি করা হয়েছে, তাদের সবাইকে তিন মাস আগেই চাকরিচ্যুত করেছেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান। “যদি কোনও কারণে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরা পড়ে যায়, তাহলে যেন বলতে পারে, এটা আমার কর্ম না। এটা তো আমার কম্পিউটার অপারেটর আমার নাম ভাঙিয়ে করেছে,” বলেন র্যাব-এর মুখপাত্র।
রিজেন্ট হাসপাতাল ও গ্রুপের মালিক ও এমডিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং এর মধ্যে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। মো: শাহেদকে আটক করার জন্য অভিযান চলছে বলেও জানায় র্যাব।
শাহেদের রাজনীতিক পরিচয় নিয়ে একটি সূত্র বলছে, তিনি বিভিন্ন টেলিভিশনে সরকার তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলতেন এবং বিএনপি-কে তুলোধূনো করতেন। এটাই ছিল তার রাজনৈতিক ফায়দা লোটার মূল হাতিয়ার। নিজেকে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপদেষ্টা, কখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ভাঙাতেন নিজের স্বার্থসিদ্ধ করার জন্য। প্রকৃতপক্ষে ডা. শাহেদ একজন সুবিধাবাদী ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক বলেই গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


One thought on “রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক, কে এই সাহেদ?”