মাস্ক কেলেংকারী : দুদকে হাজির জেএমআই ও তমা, খবর নেই আমিনের
উত্তরদক্ষিণ । ঢাকা । ০৮ জুলাই ২০২০
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০ । ০২:৩৭
করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাস মহামারীর মধ্যে জীবন-রক্ষাকারী মাস্ক, পিপিই ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে দুদকে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছিল। গত ১ জুলাই এই ৩ জনকে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রসহ বুধবার (০৮ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আসার জন্য নোটিস দিয়েছিল দুদক।
তার মধ্যে জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক ও তমা কনস্ট্রাকশনের সমন্বয়কারী সমন্বয়কারী (মেডিকেল টিম) মো. মতিউর রহমান দুদকে উপস্থিত হলেও এলান করপোরেশনের আমিনুল ইসলাম আসেন নি।
প্রায় ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জেএমআই’র চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং তমা কনস্ট্রাকশনের সমন্বয়কারী (মেডিকেল টিম) মো. মতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
আভিযোগ র্র্চেয়েছে, মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে যেসব মাস্ক পাঠানো হয়, তার প্যাকেটে ‘এন-৯৫’ লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক।
রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতালে এন-৯৫ মাস্কের মোড়কে সাধারণ মাস্ক দেওয়ার ঘটনায় তোপের মুখে পড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগার।
রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেও ভুল মাস্ক সরবরাহে নাম আসে জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সরবরাহ করা এন-৯৫ মাস্কের কয়েকটি চালান পরীক্ষা করে যত সংখ্যায় থাকার কথা ছিল তার চেয়ে কম পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জেএমআই চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও তমা কনস্ট্রাকশনের সমন্বয়কারী মতিউর রহমান উভয়ের বক্তব্য হচ্ছে, অনুসন্ধানের জন্য তারা (দুদক) ডেকেছিল। নিজেদের বক্তব্য পৃথকভাবে দুদককে তারা জানিয়েছেন।
এ দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে দুদকের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত সাংবাদিকদের বলেন, “করোনাভাইরাসের মধ্যে মাস্ক, পিপিইসহ অন্যান্য জিনিসপত্র সরকারের বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে যে চুক্তি ছিল সেখানে দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে। এই সব অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। কারা কারা এসব দুর্নীতি-অনিয়মের সাথে জড়িত তাদেরকে বের করার জন্যই এই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।”
এর আগে অনুসন্ধান দলের প্রধান দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল জেএমআই হাসপাতাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমেটেডের চেয়ারম্যান ও তমা কনস্ট্রাকশনের সমন্বয়কারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
অনুসন্ধান দলের অপর তিন সদস্য হলেন- কমিশনের উপ-পরিচালক নুরুল হুদা, সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান ও আতাউর রহমান।
একই অভিযোগে বুধবার এলান করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও তিনি দুদকে আসেননি।
এর আগে গত ১ জুলাই এই ৩ জনসহ ৫ জনকে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রসহ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আসতে নোটিস দিয়েছিল দুদকের এই অনুসন্ধান দল।
অপর ২জন হচ্ছেন, মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের চেয়ারম্যান, লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু।
এই দু জনকে ৯ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক।

