নলতা শরীফের খাদেম আনছার উদ্দিনের দাফন সম্পন্ন
শেখফারুক । মীর তুহিন হাসান । পারভেজ বীরু
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১৫:৪৭
আজ বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বাদ ফজর সাতক্ষীরার নলতা রওজা শরীফের খাদেম আলহাজ্ব মৌলভী আনছার উদ্দিন আহমদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। করোনা মহামারীর কারনে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেনপুর্ব-ঘোষণা ছাড়াই ‘নিভৃতে’ তাকে সমাহিত করা হয়েছে।
নলতা শরীফ কর্তৃপক্ষ খাদেম সাহেবের জানাজা বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাদ আছর নলতা শরীফ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠানের পক্ষে ছিলেন। তার করোনা-পজিটিভ হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যবিধি পালনের বাধ্যবাধকতা চলে আসে।
জানাজায় ব্যাপক লোক সমাগমের বিষয়টি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন ও নলতা শরীফের মধ্যে এ বিষয়ে একাধিক বৈঠকের পর প্রশাসনের নির্দেশনাও ও রওজা শরীফ কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়।
খাদেম সাহেব সাতক্ষীরা সহ দেশে ও বিদেশে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় ছিলেন। তার জানাজায় হাজার হাজার লোকের সমাগম হত বলে ধারণা করা হয়। সেই অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি পালন অসম্ভব হয়ে পড়তো। এজন্য অনেকটা নিভৃতে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। তারপরও সেখানে বিপুল মানুষ হাজির হন।

ফজরের নামাজের পর তাকে নলতা রওজা শরীফের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে রওজা শরিফের মাঠে তার জানাজার নামাজ পড়া হয়। জানাজায় ইমামতি করেন নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু সাঈদ।
এ বিষয়অটি সার্বিক ভাবে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ডা. আফম রুহুল হক সামলিয়েছেন। তিনি নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনেরও সভাপতি।
খাদেম আনসারউদ্দিন মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর।
তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। কয়েকদিন আগে শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
অসুস্থ্য হওয়ার পর গত ৪ জুলাই খাদেম সাহেবের নমুনা সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য দেয়া হয়। টেস্টের রিপোর্টে করোনা-পজিটিভ এসেছে। করোনা পজিটিভ হওয়ায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়।
মৃত্যুকালে সাতক্ষীরা সহ সারাদেশে ও দেশের বাইরে অসংখ্য ভক্ত রেখে গেছেন তিনি।

তার মৃত্যুতে সাতক্ষীরা সহ সারাদেশে ও বিদেশে মুরিদদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। সাতক্ষীরা জেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি খুবই শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ছিলেন।
অত্যন্ত সদালাপী, বিনয়ী ও হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটি সকলের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন। বিপদে আপদে দোয়া ও সহযগিতার জন্য মানুষ তার কাছে ছুটে যেতেন। কারো কাছে তিনি ছিলেন হুজুর, কারো কাছে খাদেম মামা, আবার কেউ তাকে মুরুব্বী বলে ডাকতেন।
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা পাইকাড়া গ্রামের তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম এজাহার আলী।
পীর সাহেব খানবাহাদুর আহছানউল্লাহ (র:)-এর নলতা রওজা শরীফে খাদেম হিসেবে তিনি আমৃত্যু নিয়োজিত ছিলেন।
অবিভক্ত বাংলার শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক আলহাজ্জ্ব খান বাহাদুর আহছানউল্লা (র.) রওজা শরীফ-ই মূলতঃ নলতা রওজা শরীফ নামে পরিচিত। তিনি পীর সাহেব হিসেবে খ্যাত হন।
আহছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পীর সাহেব খান বাহাদুর আহছানউল্লা (র.)-এর জীবদ্দশায় তার অত্যন্ত স্নেহভাজন ছিলেন মৌলভী আনসার উদ্দীন।
পীর সাহেবের দেয়া নির্দেশনা অনুসারে মৌলভী আনসার উদ্দীন রওজা শরীফ পরিচালনা ও নিজের জীবন নির্বাহ করতেন।
পীর সাহেবের মৃত্যুর পর থেকে মৌলভী আনসার উদ্দীন পাক রওজা শরীফের খাদেম হিসেবে বিশ্বস্ততার সঙ্গে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

