‘করোনায় মেডিকেল টেক্সটাইল বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি’
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০। আপডেট ২০:০০
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, করোনা বা কোভিড-১৯ অতিমারি বাংলাদেশের জন্য পিপিই ও মাস্কের মতো মেডিকেল টেক্সটাইলে রফতানি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তিনি বেসরকারিখাতের উদ্যোক্তাদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক ওয়েবিনার সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিল্ড চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান, বেসরকারি গবেষণা সংস্থা- পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, ডিসিসিআই সাবেক সভাপতি রাশেদ মাকসুদ খান, হোসেন খালেদ, এমএইচ রহমান, আফতাব-উল ইসলাম, বেনজীর আহমেদ, সাইফুল ইসলাম ও মো. সবুর খান বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি শামস মাহমুদ।
প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, এবারের বাজেট অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ব্যবসাবান্ধব। বাজেটে কর্পোরেট কর ও ব্যাক্তি কর রেয়াতসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আপনারা আরো সুযোগ পাবেন। তিনি কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও বেসরকারিখাতকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ব্যাংকিং খাতে আরো ডিজিটাইলাইজেশন এখন সময়ের দাবি। প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের ব্যাংক হিসাব না থাকায় সরকার করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সবার কাছে নগদ আর্থিক সহায়তা পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য উৎসে কর কমিয়ে শুন্য দশমিক ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন। চীন থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সুনিদিষ্ট রোডম্যাপ ও কৌশল এখনই নেয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডিসিসিআই সভাপতি জানান, গত অর্থবছরে রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি ফিরে পাওয়া, অশুল্ক বাধা দূর ও সম্ভাবনাময় অংশীদারদের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, কোভিডের ফলে বৈশ্বিক চাহিদা ও সাপ্লাই দুটোই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তিনি অর্থনীতির এ অবস্থা উত্তরণে স্বল ও মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি কোভিড মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সমূহের সংস্কার ও বন্ড মার্কেট আরো কার্যকরের অনুরোধ জানান।
আসিফ ইব্রাহীম দেশের বন্ড মার্কেট আরো কার্যকর করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পসমূহে অর্থায়ন নিশ্চিতকল্পে সেগুলোকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার প্রস্তাব করেন। সূত্র: বাসস।

