রুয়েট শিক্ষার্থীদের তৈরি ভেন্টিলেটর কতটা কার্যকর?

রুয়েট শিক্ষার্থীদের তৈরি ভেন্টিলেটর কতটা কার্যকর?

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০। আপডেট ১৯:৪৭

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তথা কভিড-১৯ আক্রান্ত মুমূর্ষ রোগীদের জন্য স্বল্প খরচে জরুরি অবস্থায় ব্যবহারযোগ্য ভেন্টিলেটর তৈরি করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একদল শিক্ষার্থী। জানা গেছে, ২ মাসের প্রচেষ্টায় প্রফেসর ড. মাসুদ রানার নেতৃত্বে রুয়েটের ইলেক্ট্রিকেল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর একটি দল ‘দুর্বার কান্ডারী’ নামের এই ভেন্টিলেটর উদ্ভাবন করেছে।

তাদের দাবি, কোভিড-১৯ এর কারণে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সৃষ্ট দুর্ভোগ লাঘব করতেই তাদের এই প্রয়াস। গত ১৪ জুলাই বিভাগের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর রফিকুল ইসলাম শেখ এই ভেন্টিলেটরের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বর্ণনা করেন। এ সময় রেজিস্ট্রার প্রফেসর সেলিম হোসেন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ফারুক হোসেন এবং ইলেক্ট্রনিক অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর শামিম আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

প্রফেসর মাসুদ রানা বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ভেন্টিলেটর মাত্র ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকায় তৈরি করা সম্ভব। তাদের দাবি, কম খরচে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেল ভেন্টিলেটর’ কোভিড–১৯-এ আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগীদের শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখতে কার্যকর হবে।

ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টায় রুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের হলরুমে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ভেন্টিলেটরটি প্রদর্শন করা হয়। জানা গেছে, ইলেক্ট্রিকেল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের আরও ১৫ জন শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত ‘দুর্বার কান্ডারী’ দল ভেন্টিলেটরটি তৈরি করেন। অধ্যাপক মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে গঠিত গবেষণা দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন।

দুর্বার কান্ডারী দলের শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের তৈরি এই ভেন্টিলেটর তৈরি করতে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ কেনার জন্য প্রায় ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এটি তৈরিতে আদর্শ ভেন্টিলেটরের মান অনুসরণ করা হয়েছে। তবে ভেন্টিলেটরটিকে অ্যাডভান্সড লেভেলে নিতে আরও কিছু কাজ করতে হবে।

অধ্যাপক মাসুদ রানা জানান, গত মার্চ মাসের শেষের দিকে রুয়েটের কিছু শিক্ষার্থী মিলে ‘দুর্বার কান্ডারী’ দল গঠন করেন। তবে সাধারণ ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সে সময় সবাই বাড়িতে ছিলেন। তাই প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা অনলাইনে সংযুক্ত হতেন। কাজের সুবিধার জন্য শিক্ষার্থীদের মেকানিক্যাল, হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার দলে ভাগ করা হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্থানে থেকেই নিজেদের কাজ করেছেন। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় একপর্যায়ে তাদের সবার কাজ রুয়েটে পাঠানো হয়। এরপর রুয়েটের একটি ল্যাবে সেগুলো নিয়ে কাজ করা হয়। তিনি আরও জানান, কোভিড–১৯ চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) দেওয়া ইমার্জেন্সি মেডিকেল ভেন্টিলেটরের মডেল অনুসরণ করে শিক্ষার্থীরা এই ভেন্টিলেটরটি বানিয়েছেন। তাই এই ভেন্টিলেটরটি মূলত কোভিড–১৯ রোগীদের ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এটির নির্মাণব্যয় কম রাখা সম্ভব হয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading