সাহাবউদ্দিন মেডিকেলের এমডিসহ আটক ৩ জন রিমান্ডে
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১৭:৪০
চিকিৎসার নামে ‘প্রতারণা ও অনিয়মের’ অভিযোগে র্যাবের দায়ের করা মামলায় ঢাকার গুলশানের সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফয়সাল আল ইসলাম, সহকারী পরিচালক ডা. আবুল হাসনাত ও স্টোর কিপার শাহরিজ কবিরকে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে ঢাকার মহানগর হাকিম আশেক ইমাম মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই আদেশ দেন।
গত দু’দিনে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ফয়সাল, ডা. হাসনাত ও শাহরিজকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করে গুলশান থানা পুলিশ। অন্যদিকে আসামিদের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নাকোচ করে তিনজনকেই ৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে গত রবিবার (১৯ জুলাই) সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়মের ‘প্রমাণ’ পাওয়ার কথা জানানো হয় র্যাবের পক্ষ থেকে। তখনই ডা. হাসনাত ও শাহরিজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. মো. সাহাবউদ্দিনের ছেলে ফয়সাল এবং ডা. হাসনাত ও শাহরিজকে আসামি করে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে গুলশান থানায় মামলা করেন র্যাবের নায়েব সুবেদার ফজলুল বারী।
রাতেই বনানীর ‘সুইট ড্রীম’ হোটেল থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার বাবা ডা. সাহাবউদ্দিন ওই হোটেলেরও মালিক। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
সরকারের অনুমোদন না থাকার পরও র্যাপিড কিট দিয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা, পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া, সুস্থ রোগীকে ‘করোনাভাইরাস পজিটিভ’ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা, মেয়াদোত্তীর্ণ মেডিকেল সরঞ্জাম রাখাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে গুলশান থানায় দায়ের করা র্যাবের ওই মামলায়।
এছাড়া হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ ১ বছর আগে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তা নবায়ন করা হয়নি বলেও র্যাবের অভিযোগ। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা এ মামলায় বলা হয়েছে, হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহাবউদ্দিনের ছেলে ফয়সলের নির্দেশে ডা. আবুল হাসনাত অন্যদের সহযোগিতায় এসব অপরাধের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন।
মামলায় বলা হয়, হাসপাতালের চতুর্থ তলায় অস্ত্রোপাচার কক্ষে মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল সামগ্রী পাওয়া যায়। এরমধ্যে ২০১৩ সালে মেয়াদ শেষ হয়েছে, এমনও মেডিকেল সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছে।
ডা. আবুল হাসনাতের কক্ষ তল্লাশি করে নয়টি র্যাপিড টেস্ট কিট এবং তার স্বাক্ষরে চারজনের অ্যান্টিবডি টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার কথাও জানানো হয় মামলার এজাহারে।

