তুরস্কের সোফিয়া মসজিদে ৮৬ বছর পর জুম্মা, মুসল্লিদের ঢল

তুরস্কের সোফিয়া মসজিদে ৮৬ বছর পর জুম্মা, মুসল্লিদের ঢল

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২০ । আপডেট ২০:‌১০

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের খ্যাতনামা হাইয়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তর করায় ৮৬ বছর পর ফের সেখানে প্রথমবারের মতো শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুম্মার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। এতে দেশটির প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রিসভার সদস্যসহ মুসল্লিদের ঢল নামে। মসজিদ ছাপিয়ে আশপাসের সড়কে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাজার হাজার মুসলিম ঐতিহাসিক এই জুম্মার নামাজে শরিক হন। বিবিসি, আলজাজিরা, সিএনএন, রয়টার্স, ডন, এএফপিসহ বিশ্বের প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো জুম্মার নামাজের এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে গত ১০ জুলাই তুর্কী এক আদালত সাবেক এই গির্জাকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়নি বলে রায় দেয় এবং এর পরেই তুরস্কের ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট রিস্যেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান সরকার একে মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে আদেশ জারি করে।

অবশ্য বিবিসির প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে যে, দেড় হাজার বছরের পুরনো হাইয়া সোফিয়া এক সময় ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থোডক্স গির্জা। পরে তা পরিণত হয় মসজিদে, তারও পর একে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। বিশ্বের নানা দেশ থেকে এই ভবনটিকে মসজিদে রূপান্তরের সরকারি সিদ্ধান্তের মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

নামাজের লাইভ ভিডিওতে দেখা গেছে, আজ শুক্রবার প্রথম জুম্মার নামাজের আগে হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় বহু মুসল্লি মসজিদের বাইরে জুম্মার নামাজ আদায় করেন।

তুরস্কের ধর্মমন্ত্রী বলেছেন, হাইয়া সোফিয়া মসজিদের ভেতরে ১ হাজার মানুষ একসাথে নামাজ পড়তে পারবেন। কিন্তু এর আগেই হাজার হাজার মানুষ মসজিদটির আশেপাশে জুম্মার নামাজ আদায়ের জন্য বসে পড়েন বলে বিবিসি উল্লেখ করেছে।

খবরে বলা হয়, প্রথম দিনের জামাতে মসজিদের ভেতরে মুসল্লিদের সাথে সামিল হন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিস্যেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তুর্কী ধর্মমন্ত্রী আলী এরবাস জানিয়েছেন, নতুন মসজিদের জন্য ৩ জন ইমামকে নিয়োগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন মেহমেত বয়নুকালিন ইস্তাম্বুলের মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী আইন বিভাগের অধ্যাপক।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দেশটির টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইস্তাম্বুলের গভর্নর আলী এরলিকায়া করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলার স্বার্থে জুম্মার নামাজের মুসল্লিদের ‘ফেসমাস্ক, জায়নামাজ, ধৈর্য এবং সহানুভূতি’ নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করার পরামর্শ দেন। সাহায্যের জন্য মসজিদ ও তার আশেপাশে স্বাস্থ্য কর্মীরা মোতায়েন থাকবেন বলেও তিনি জানান। কিন্তু প্রথম জুম্মাকে কেন্দ্র করে হাইয়া সোফিয়া মসজিদ ও তার আশেপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

হাইয়া সোফিয়ার ইতিহাস
বিবিসির বর্ণনা অনুযায়ী, হাইয়া সোফিয়ার ইতিহাসের সূচনা ৫৩৭ খ্রিস্টাব্দে যখন বাইজান্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান ইস্তাম্বুলের গোল্ডেন হর্ন নামে এক জায়গায় একটি বিশাল গির্জা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় বিশাল গম্বুজের এই গির্জাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গির্জা এবং দালান বলে মনে করা হতো। ১২০৪ সালে ক্রসেডারদের হামলার ঘটনা বাদে কয়েক শতাব্দী ধরে হাইয়া সোফিয়া বাইজান্টাইনদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

অটোমান (ওসমান) বংশীয় সুলতান তৃতীয় মেহ্‌মেদ ১৪৫৩ সালে বাইজান্টাইন শাসকদের হাত থেকে ইস্তাম্বুল দখল করে নেন। তার আগ পর্যন্ত শহরটির নাম ছিল কনস্টান্টিনোপল। ইস্তাম্বুল দখলের পর বিজয়ী মুসলিম বাহিনী প্রথমবারের মতো গির্জার ভেতরে নামাজ আদায় করেন। অটোমান শাসকেরা এরপর হাইয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করেন। মসজিদের চারপাশে চারটি মিনার তৈরি করেন। গির্জার সব খ্রিস্টান প্রতিকৃতি এবং সোনালি মোজাইকগুলো কোরানের বাণী দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এর পরের কয়েকশো বছর ধরে হাইয়া সোফিয়া ছিল অটোমান মুসলমান সাম্রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু।

১৯৩৪ সালে তুরস্কে ধর্মনিরপেক্ষতা চালু করার প্রক্রিয়ায় মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়। হাইয়া সোফিয়া এখন তুরস্কের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান বলে স্বীকৃত। প্রতিবছর ৩৭ লক্ষ পর্যটক এটি দেখতে আসেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading