পটুয়াখালীর পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই!
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১৮:৩৫
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর পশুর হাটগুলোতে ব্যাপক ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। করোনা মহামারির মধ্যে এসব হাটের অধিকাংশ ক্রেতা-বিক্রেতা কোনও ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। তাদের মুখে মাস্ক নেই, সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। এতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা স্থানীয় প্রশাসনের কোনও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। গত দু’দিন জেলার কয়েকটি হাট ঘুরে দেখা এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার সেহাকাঠী হাট, হাজির হাট, বোতলবুনিয়া হাট, খাটাশিয়া হাট, মৌকরন হাট, পৌর এলাকার ব্রিজের হাট, গলাচিপা উপজেলার বাদুরা হাট, গলাচিপা হাট, বাউফল উপজেলার কালাইয়া হাট, বগা হাট, মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলি-সুবিদখালী হাট, ভয়াং হাটসহ প্রায় সবগুলো পশুর হাটের চিত্র প্রায় একই দেখা গেছে। এসব হাটে দূর-দূরান্ত থেকে বিক্রেতা ও ক্রেতা সমাগম হওয়ায় করোনা মহামারি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুকি বাড়ছে।
বাদুরা হাট গলাচিপা উপজেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট। পটুয়াখালী সদর, গলাচিপা ও বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার সংযোগস্থল হওয়ায় এ হাটে অর্ধ-লক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়। প্রতি বৃহস্পতিবার বসে এই পশুর হাট। গত বৃহস্পতিবার ওই হাটে ঘুরে দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। অধিকাংশ মানুষ মাস্ক ছাড়াই হাটে এসেছেন। দু-একজনের ফেস মাস্ক থাকলেও কথা বলার সুবিধার্থে মুখ থেকে নামিয়ে রেখেছেন তা। হাটের প্রবেশ পথে রাখা হয়নি হাত ধোয়ার কোনও ব্যবস্থা। হাট কমিটির পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চোখে পড়েনি সেখানে।
বাদুরা হাটে গরু কিনতে আসেন আমখোলা গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ। মুখে মাস্ক নেই কেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘পকেটে আছে।’ কথা হয় সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের (৫০) সঙ্গে। অন্যদের মতো তিনিও মাস্ক পরেননি। জানতে চাইলে তার জবাব, ‘আল্লাহর রহমতে আমাদের কিছুই হবে না।’
সদর উপজেলার সেহাকাঠী হাটে গরু কিনতে আসেন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল মালেক। তিনি বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই হাটে কেনাবেচা করতে আসেন। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো সুযোগ নেই। দেউলী সুবিদখালী হাটের ইজারাদার আবদুল মোতালেব সিকদার বলেন, ‘সবাইকে স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা আছে। কিন্তু মানুষ তা মানছে না। আসলে গ্রামের মানুষ সচেতন না, তাই স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা যাচ্ছে না।’
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে আয়োজকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা উপক্ষো করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে প্রায় ২৮শ। মারা গেছে ৪২ জন। আর আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৮শ বেশি।

