সাতক্ষীরায় আবুল খায়ের ও ভূমিহীন নেত্রী জায়েদার জন্য নাগরিক স্মরণসভা
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২০ । আপডেট ২০:০৫
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের সরদার ও ১৯৯৮ সালে নিহত ভূমিহীন নেত্রী জায়েদার শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আনিসুর রহিম। সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণ সভায় ভূমিহীন আন্দোলনের নেত্রী শহীদ জায়েদা, ভূমিহীন আন্দোলনের নেতা সাইফুল্লাহ লস্কর, এড. আব্দুর রহিম, কাজী সাইদুর রহমান, এড. ফিরোজ আহমেদ, আশরাফ-উল-আলম টুটু, সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের সরদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক সোনা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলফাজ উদ্দীন, সাংবাদিক মহসীন হোসেন বাবলুসহ নাগরিক নেতাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৮৮ সালে সাতক্ষীরার বাঁকাল এলাকায় সরকারি খাসজমির ওপর নিরঙ্কুশ দখল প্রতিষ্ঠার জন্য ওই জমিতে বসবাসকারী ভূমিহীনদের বসতিতে দিনের বেলায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার পর ভূমিহীনরা খাসজমিতে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আরও সোচ্চার হয়। তারা খাসজমি তাদেরকে স্থায়ী বরাদ্দ দেওয়ার দাবি তোলে। ১৯৯৮ সালের মে মাস থেকে শুরু হয় দেবহাটা-কালীগঞ্জে ভূমিহীনদের ওপর ভূমিদস্যুদের হামলা, নির্যাতন ও উচ্ছেদ। ২৭ জুলাই ভূমিহীনদের ওপর ভূমিদস্যু ও পুলিশের গুলিবর্ষণে নিহত হন ভূমিহীন জায়েদা।
দুটি হত্যাকাণ্ডের পর সাতক্ষীরাসহ দেশজুড়ে ভূমিহীনদের খাসজমির লড়াই ব্যাপকতর হয়। এটি জাতীয় ইস্যুতে রূপ নেয়। সব রাজনৈতিক দলের প্রধান সেই সময়ে ভূমিহীনদের মাঝে খাসজমি বিতরণসহ ভূমিহীনদের ৮ দফা দাবির সমর্থনে সাতক্ষীরায় এসে একাত্বতা ঘোষণা করেন। কিন্তু তারপরও জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় ভূমিহীনদের দাবি অনুযায়ী বহু ভূমিহীন আজও জমি পায়নি বলে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্মরণ সভায়।
সভায় বক্তব্য রাখেন নাগরিক নেতা আবুল কালাম আজাদ, এড. আজাদ হোসেন বেলাল, আশেক-ই-এলাহী, শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু, সুধাংশু শেখর সরকার, মুক্তিযোদ্ধা কাজেম আলী, আনোয়ার জাহিদ তপন, নিত্যানন্দ সরকার প্রমুখ।

