চামড়ার মূল্য নির্ধারণ: গরু প্রতিবর্গফুট ৩৫, খাসি ১৩ টাকা
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১৮:১৭
পবিত্র ঈদুল আজহা’কে সামনে রেখে কোরবানিকৃত পশুর চামড়ার মূল্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্য-অনুযায়ী, এ বছর রাজধানী ঢাকায় গরুর কাঁচা চামড়া (লবণযুক্ত) প্রতিবর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে এবং ঢাকার-বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা দরে বেচাকেনা করতে হবে। এছাড়া, ঢাকাসহ সারাদেশে খাসীর কাঁচা চামড়া প্রতিবর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১০ থেকে ১২ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী রবিবার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে এক অনলাইন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। ‘আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ, কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মিডিয়ায় প্রচার এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে পর্যালোচনা সংক্রান্ত’ জুম প্লাটফর্ম সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন বাণীজ্যমন্ত্রী। এসময় পশু-ভেদে কাঁচা-চামড়ার দর-সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরে টিপু মুনশী বলেন, ট্যানারীর মালিকরা উল্লিখিত মূল্যে কাঁচা চামড়া ক্রয় করার ঘোষণাও দিয়েছেন।
বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সঞ্চালনায় জুম প্লাটফর্ম সভায়, তথ্য সচিব কামরুন নাহার, এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস এন্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, লেদার গুডস এন্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনে প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ হাইড এন্ড মার্চেন্ট সোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান বক্তৃতা করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়ার নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিতের পাশাপাশি যথাযথ প্রক্রিয়ায় চামড়া সংগ্রহ ও কাঁচা চামড়ায় যথাসময়ে লবণ-লাগানোর বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এসময় উল্লেখ করেন, চামড়া সংগ্রহের ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে কাঁচা চামড়ায় অবশ্যই প্রয়াজন-মাফিক লবণ মিশাতে হবে। মন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত লবণ রয়েছে এবং তা সরবরাহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
টিপু মুনশী জানান, চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, নির্ধারিত মুল্যে ক্রয়-বিক্রয়সহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য সকল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জেলা পর্যায়ে মনিটরিং করবে।
মন্ত্রীর ভাষ্য, চামড়া নিয়ে যেকোনও ধরনের বিভ্রান্তি দূর ও জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, বেতার, কমিউনিটি রেডিওতে প্রচারণা চালানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া, ফেসবুক-ইউটিউবে ১০ লাখ মানুষের কাছে ভিডিও বার্তা প্রেরণ এবং পর্যাপ্ত হ্যান্ডবিল বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

