ইন্ডিয়া সীমান্তের জমি দখলচেষ্টা নেপালিদের, ফের উত্তেজনা
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০ । আপডেট ২০:৩৫
বেশ কিছুদিন ধরে চলা ইন্ডিয়া ও নেপাল সীমান্ত বিরোধের মধ্যেই নতুন করে সীমান্তবর্তী টনকপুর শহরের কাছে ওই বিরোধ আবারও মাথাচাড়া দিয়েছে। সেখানে নো-ম্যানস ল্যান্ডে খুঁটি পুঁতে নেপালিরা জমি কব্জা করার চেষ্টা করছে। ইন্ডিয়া এ অভিযোগ তোলার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ) ওই এলাকা পরিদর্শনে গেলে তাদের তীব্র ইন্ডিয়া-বিরোধী বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। স্থানীয় জেলা প্রশাসন সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শীঘ্রই ওই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে টনকপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যে নেপালিরা ইন্ডিয়ার দিকে অস্থায়ীভাবে বাস করে ছোটখাটো ব্যবসা করতেন তারাও উত্তেজনার জেরে পাট গুটিয়ে নিজেদের দেশে ফিরে গেছেন। ইন্ডিয়ার উত্তরাখন্ড রাজ্যের চম্পাবত জেলায় নেপাল সীমান্ত ঘেঁষা একটি বাণিজ্য শহর টনকপুর। শিথিল সীমান্তের সুযোগ নিয়ে এ অঞ্চলে দু’দেশের লোকজনের যাতায়াতও প্রায় অবাধ। কিন্তু গত বুধবার সীমান্তের ব্রহ্মদেব নামে একটি এলাকায় নেপালিরা বেশ কিছু কংক্রিট ও কাঠের খুঁটি পুঁতে এবং অনেক গাছপালা লাগিয়ে বেশ বড় একটি এলাকা ঘিরে ফেলার চেষ্টা করে, যেটা নো-ম্যানস ল্যান্ডের ভেতর পড়ছে বলে ইন্ডিয়ার অভিযোগ।
চম্পাওয়াতের পুলিশ সুপার লোকেশ্বর সিং বিবিসি বাংলাকে বলেন, “সীমান্তের মিসিং পিলার নাম্বার ৮১১, অর্থাৎ যেখানে কোনও দেশেরই সীমান্ত পিলার নেই। সেখানে ওরা কিছু প্ল্যান্টেশন করেছে ও বেড়া বানানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। জায়গাটা নো ম্যানস ল্যান্ডে পড়ে। আজ রবিবার সকালেও নেপালের কর্মকর্তারা জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন। তারপর আমাদের সঙ্গে তাদের আলোচনায় বসার কথা আছে।”
বিবিসি বলছে- ঘটনা হলো, ভারতের যে সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি নেপাল সীমান্ত পাহারা দিয়ে থাকে তারা এর আগে দু-দুবার ব্রহ্মদেবে গিয়ে নেপালিদের বিক্ষোভ ও ভারত-বিরোধী স্লোগানের মুখে পড়েছে – খুঁটি বিরোধের এখনও কোনও সমাধান হয়নি। কিন্তু ভারত কি বিষয়টি নিয়ে নেপালের কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে?
পুলিশ প্রধান মি সিং বিবিসিকে জবাবে বলছিলেন, “অবশ্যই অভিযোগ জানানো হয়েছে। আমরা প্রথম থেকেই নেপালের স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা বলছি, দিল্লিতেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।” খুব শিগগিরি বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদী। যদিও টনকপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা অতটা আশ্বস্ত বোধ করতে পারছেন না।

শহরের বস্ত্র ব্যবসায়ী ভিনিত জোশী বিবিসিকে বলেন, “দেখুন ওরা সীমান্তের জমি অন্যায়ভাবে দখল করে রেখেছে। নো ম্যানস ল্যান্ডের ভেতর প্রায় ২৫০ গজ ভেতরে ঢুকে পড়েছে। আমাদের বাহিনী ওখানে গিয়ে বোঝানোরও চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি।”
“শহরের অবস্থা এখনও মোটামুটি ঠিকই আছে। কিন্তু সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলোতে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে উঠছে বলেই আমরা খবর পাচ্ছি।” অথচ টনকপুরে এতদিন নেপালি ও ভারতীয়রা পাশাপাশিই ব্যবসা করে এসেছেন। সীমান্ত পারাপারেও কখনও লাগেনি পাসপোর্ট-ভিসা। কিন্তু আড়াই মাস আগে কালাপানি নিয়ে দুদেশের সীমান্ত বিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকেই অবস্থা পাল্টাতে শুরু করে।
ভিনিত জোশী জানান, “যখন থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে. পি. ওলি ভারত-বিরোধী ভাষণ দিতে শুরু করেছেন, তখন থেকেই এখানে বসবাসকারী নেপালিরা পাততাড়ি গোটাতে শুরু করে দেন। তারা অনেকেই এখানে মোমো বা চাউমিনের দোকান চালাতেন। কিন্তু তারা আর এখানে নিরাপদ বোধ করছিলেন না। গন্ডগোল আরও বাড়তে পারে এই আশঙ্কায় তারা নেপাল ফিরতে শুরু করে দেন।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা– এই তিনটি বিতর্কিত অঞ্চলকে নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে নেপাল গত মাসে যে পদক্ষেপ নিয়েছে- তা নিয়ে দিল্লি ও কাঠমান্ডুর কূটনৈতিক সম্পর্কে এর মধ্যেই ফাটল ধরেছে। এখন সেই কালাপানি থেকে সীমান্ত বরাবর প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে ব্রহ্মদেব এলাকা নিয়েও নেপাল অনড় অবস্থান নেয়- না কি ভারতের সঙ্গে কোনও আপষ রফায় আসে সেটাই দেখার বিষয় হবে।

