ভার্চ্যুয়াল নয়, ঈদুল আযহার পরে আদালত খুলছে: আইনমন্ত্রী

ভার্চ্যুয়াল নয়, ঈদুল আযহার পরে আদালত খুলছে: আইনমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ২১:৪৫

করোনা মহামারির কারণে ৪ মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকা আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হবে ঈদুল আযহার ছুটি শেষে। দেশের সব আদালত কোরবানির ঈদের পর পুনরায় খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ”আমরা এই ধারণায় উপনীত হয়েছি যে, আমাদের করোনাভাইরাস, কোভিড-১৯ এর সাথে বসবাস করতে হবে। সেজন্য আমি যদ্দুর জানি, মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমার শেষ যে আলাপ হয়েছে, সেটা হচ্ছে- ঈদের পরে স্বাভাবিক আদালতগুলো (নিম্ন আদালত) খুলে দেয়া হবে।” বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

একই সঙ্গে মন্ত্রী জানান, ফৌজদারি মামলার বিচারিক কাজে বা সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কিছু বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। কিন্তু দেওয়ানি মামলায় সেটা নাও থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়- আইনমন্ত্রী বলেছেন, ”এর কারণ হচ্ছে, যেসব আসামি কারাগারে আছেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কারাগারগুলোয় কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয় নাই। আমরা সেই অবস্থায় রাখতে চাই। আদালতের সেই কাজটা কীভাবে করবো, আইনের কী পরিবর্তন লাগবে, সেদিকে আমরা এগিয়ে যাবো। কিন্তু অন্যান্য কাজের সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে, সাধারণ আদালতের যেভাবে কাজ হচ্ছিল, সেভাবেই হবে। সেটা ঈদের পরপরই খুলে দেয়া হবে।”

সুপ্রিমকোর্ট কবে খুলবে বা কীভাবে চলবে, সেই ব্যাপারে প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান আইনমন্ত্রী।

দেশে গত মার্চ মাসে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে উচ্চ ও নিম্ন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে ৩১ মে থেকে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে বিচারিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়। কিন্তু নিম্ন আদালতে শুধুমাত্র জামিন শুনানি এবং নতুন মামলার আবেদন গ্রহণের মধ্যেই এই আদালতের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে। উচ্চ আদালতে বিভিন্ন বিষয়ে শুনানি হয়েছে।

বিচার প্রত্যাশী ও আইনজীবীদের সংকট
বাংলাদেশে চারমাস ধরে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ থাকায় একদিকে সংকটে পড়েছেন সাধারণ বিচার প্রত্যাশী মানুষ। অন্যদিকে এই পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।

চট্টগ্রামের বাসিন্দা মোঃ রোকন বলেন, পারিবারিক বিষয় ঘিরে আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত, বিচার শুরু হলেই এটা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। তদন্ত রিপোর্টও দিয়েছে। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্তের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমি জানি না আদালত কি এটাকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করবেন- নাকি খারিজ করে দেবেন। ফলে একদিকে আমি উদ্বেগে ভুগছি। সামাজিকভাবে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি।

বরিশালের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ”আমাদের জমির রেকর্ডে ভুল করেছে। সেটা সংশোধনের জন্য মামলা করেছি। কিন্তু আদালত বন্ধ। কোনও কাজ হচ্ছে না। কবে হবে তাও জানি না।” শুধু এই রকম বিচার প্রত্যাশীরাই নয়, সংকটে পড়েছেন আইনজীবী, তাদের সহকারী থেকে শুরু করে আইনি পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও। বাংলাদেশে ৫০ হাজারের বেশি আইনজীবী রয়েছেন। আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় আইনজীবীদের আয়-রোজগার প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। যদিও সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছুটা সহায়তা করা হচ্ছে, তা পর্যাপ্ত নয়।

মামলা জটের আশঙ্কা?
করোনাভাইরাসে টানা দু’মাসের বেশি সময় দেশের সব আদালত বন্ধ থাকার পর, অধ্যাদেশ জারি ও আইন সংশোধনের পর মে মাসের ৩১ তারিখ থেকে বাংলাদেশে ভার্চুয়াল আদালত শুরু হয়। কিন্তু সেখানে শুধুমাত্র মামলার আবেদন গ্রহণ আর জামিন আবেদনের শুনানি করা হচ্ছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম বা ট্রায়াল বন্ধ রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন পুরনো মামলার কাজ বন্ধ, তেমনি নতুন নতুন মামলাও যোগ হচ্ছে। ফলে মামলা জট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের হিসাবেই দেশে অন্তত ৩১ লাখ মামলা ঝুলে রয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading