শিপ্রার জামিন, সিফাতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত কাল
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১৫:৫৫
কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সঙ্গে তথ্যচিত্র নির্মাণে যুক্ত থাকা স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথকে জামিন দিয়েছে আদালত। একই দিন অপর আদালতে সিনহার অপর সঙ্গী শাহেদুল ইসলাম সিফাতের জামিন আবেদনের শুনানি হলেও তার বিষয়টি আগামীকাল সোমবার (১০ আগস্ট) আদেশের জন্য রাখা হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) বেলা ১২টায় শুনানি শেষে শিপ্রার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম দেলোয়ার হোসেন। পরে শিপ্রার আইনজীবী অরূপ বড়ুয়া তপু জানান, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা না পড়া পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে শিপ্রাকে। আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর তিনি মুক্তি পাবেন।
এদিকে, সিনহার অপর সঙ্গী শাহেদুল ইসলাম সিফাতের জামিন আবেদনের শুনানি হলেও আদালত রবিবার কোনও আদেশ দেয়নি। সিফাতের আইনজীবী মাহবুবুল আলম টিপু জানান, জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহর আদালতে বেলা পৌনে ১২টায় হত্যা ও মাদকের দুটি মামলায় সিফাতের জামিন আবেদনের শুনানি হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত ভার র্যাবের কাছে দেওয়ারও আবেদন জানানো হয়। আদালত আগামীকাল সোমবার এ ব্যাপারে আদেশ দেবে।
গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত ও শিপ্রা। দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া রাশেদ ‘লেটস গো’ নামে একটি ভ্রমণ বিষয়ক ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য গত প্রায় একমাস ধরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকায় ছিলেন। আরও তিন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি উঠেছিলেন নীলিমা রিসোর্টে।
কক্সবাজারের পুলিশ বলছে, রাশেদ তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথা জানিয়ে এ ঘটনায় সিফাত ও শিপ্রাকে গ্রেপ্তার করে দুটো মামলা দায়ের করে পুলিশ।
অবশ্য ঘটনার যে বিবরণ পুলিশ দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ঘটনায় সিনহার বোনে ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার আসামি টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলিসহ সাত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্যরা রিমান্ডে ও কারাগারে আছেন।

