ঘরে আটকে অন্তঃসত্বা স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা স্বামী’র, সিঁধ কেটে উদ্ধার করল পুলিশ

ঘরে আটকে অন্তঃসত্বা স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা স্বামী’র, সিঁধ কেটে উদ্ধার করল পুলিশ

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১৫:৩৫

দাম্পত্য কলহের জের ধরে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ঘরের ভেতর জিম্মি করে অন্তঃসত্বা স্ত্রীর গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন এক স্বামী। এদিকে এ সংবাদ পেয়ে ৫ ঘণ্টার অভিযানে অবশেষে ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা গেছে, সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। এসময় ওই গৃহবধূর স্বামীকে ধারালো অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত স্বামী পলাশ প্রামানিক (৪২) উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের মাজবাড়ি গ্রামের দুলাল প্রামানিকের ছেলে। আটকের পর মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার নিমগাছি গ্রামের জিল্লার রহমানের মেয়ে রহিমা খাতুনের প্রায় দশ বছর আগে পলাশ প্রামানিকের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের অভাব অনটনের সংসারে দাম্পত্য অশান্তি বিরাজ করে। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার সকালে রহিমা অভিমান করে বাবার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এসময় পলাশ তাঁর স্ত্রীকে জোরপূর্বক ঘরের ভেতর নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে রহিমার গলায় ধারালো ছুরি ধরে হত্যা করবে বলে ভয় দেখায় পলাশ। রহিমার চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্ত কেউ ঘরে প্রবেশ করলে স্ত্রীকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার করবে বলে পলাশ হুমকি দেন। ফলে কেউ ঘরে প্রবেশ করতে সাহস পায়নি।

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশীদ, গাজিউর রহমান ও ধুনট থানায় ওসি কৃপা সিন্ধু বালাসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যান। তারা নানা কৌশলের পর অবশেষে ঘরের সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে রাত ৮টার দিকে রহিমাকে উদ্ধার ও তাঁর স্বামী পলাশকে ছুরিসহ গ্রেপ্তার করেছেন।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, এ ঘটনায় মেয়ে পক্ষ বাদী না হওয়ায় পলাশকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রহিমা খাতুনকে তাঁর মা-বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading