ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ খুঁজছে: ওবায়দুল কাদের
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১৫:৫৫
‘ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও সক্রিয় রয়েছে’ অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সরকার জঙ্গিগোষ্ঠীর বিষদাঁত ভেঙে দিলেও গোপনে গোপনে তাদের এখনও সক্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তারা সুযোগ খুঁজছে।’
দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।
দেশে সিরিজ বোমা হামলার জন্য বিএনপি সরকারকে দায়ী করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, জনবল ও বোমা সরবরাহ এতসব একদিনে গড়ে ওঠেনি। তবে রাষ্ট্রযন্ত্র সেদিন নিরব ছিল কেন? নিশ্চয়ই সরকার প্রশ্রয়দাতা আর পৃষ্ঠপোষক ছিল। না হলে কীভাবে এ দীর্ঘ প্রস্তুতি জঙ্গিরা গ্রহণ করলো? এ দেশের রাজনীতিতে তেমনি ১৫ আগস্টের মাধ্যমে নির্মম হত্যাকাণ্ডের সূচনা হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। আবার ২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলাও সেই আগস্ট মাসে। তাই বলবো, ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট, ২১ আগস্ট সবই একসূত্রে গাঁথা। এসব হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড বিএনপি।’
বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘এ দেশের রাজনীতিতে হত্যা, সন্ত্রাস, ষড়যন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার তাদের হাত ধরেই। এখনও তারা সেই অপচর্চা অব্যাহত রেখেছে। নির্লজ্জভাবে তারা গুম-খুনের কথা বলে। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, তারা কি অপারেশন ক্লিনহার্ট পরিচালনা করেনি? ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় ৯৭ জনকে হত্যা করেছিল। অপারেশন ক্লিনহার্টের হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি দিয়েছিল। অথচ আজ মানবাধিকার আর হত্যার বিচারের কথা বলে। গুম-খুনের কথা বলে। শেখ হাসিনা কোনও খুনিকে ইনডেমনিটি দিয়ে বাঁচাননি, খুনকে জায়েজ করেননি।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

