মা-মেয়েকে রশিতে বেঁধে নির্যাতনে তোলপাড়, অবশেষে তদন্ত কমিটি
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ২১:১০
কক্সবাজারের চকরিয়ায় গরুচোর সন্দেহে মা-মেয়েকে রশি বেঁধে নির্যাতনের ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যাওয়ায় দেশব্যাপী এ ঘৃণ্য ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিেতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। রবিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (উপ সচিব) শ্রাবন্তী রায়কে। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন- চকরিয়ার এসিল্যান্ড ও হারবাং ইউনিয়নের একজন ট্যাগ অফিসার। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে কক্সবাজারের চকরিয়ায় গরু চোর সন্দেহে একই পরিবারের চারজনকে রশিতে বেঁধে নির্যাতনের পর পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা ও ইউপি চেয়ারম্যান। গত শুক্রবার চকরিয়া উপজেলা হারবাং ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে রশিতে বাঁধা অবস্থায় মা-মেয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ পায় ও ভাইরাল হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়েসহ একই পরিবারের চারজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় মাহমুদুল হক বাদী হয়ে গরু চুরির অভিযোগে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট এলাকার আবুল কালামের স্ত্রী পারভীন আক্তার, তার মেয়ে সেলিনা আক্তার, রোজিনা আক্তার, ছেলে আরমান ও পেকুয়া উপজেলার ছুট্টু নামের একজনকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।
চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, এক পরিবারের তিন নারী সদস্যসহ গরু চোর সিন্ডিকেটের ৫ সদস্যকে স্থানীয় জনতা আটক করেছে বলে জানতে পারি। পরে পুলিশ পাঠালে তারা গিয়ে দেখতে পায় ওই ৩ নারী ও ২ পুরুষ সদস্যকে স্থানীয় ইউপি কার্যালয়ে আটকে রাখা হয়েছে। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
নারী নির্যাতনের বিষয়টি জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিরানুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের আমি পরিষদের এনে মেরেছি বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে এলাকায় ফিরে আসি। পরে গরুচোর আটকের ঘটনাটি জানতে পারি। ঘটনাটি চকরিয়া থানা পুলিশ ও ইউএনওকে ফোন করে জানিয়েছি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ঘটনার দিন বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জেনেছি। আমি তখন গরুচোরদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও বিষয়টি আমি নিজেই খতিয়ে দেখছি। অভিযুক্তরা যদি মনে করে তাদের অপমান বা হয়রানি করা হয়েছে তাহলে তাদের অভিযোগও আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

