যে ‘অপরাধে’ আমির খানকে ‘দেশদ্রোহী’র তকমা!
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ২০:৩০
বলিউডের যে সুপারস্টাররা নানা দেশপ্রেমমূলক ছবি করেছেন, তাদেরই অন্যতম আমির খান– যার ঝুলিতে আছে ‘সরফরোশ’, ‘মঙ্গল পান্ডে’, ‘লগান’ বা ‘রং দে বাসন্তী’-র মতো এই ঘরানার অজস্র জনপ্রিয় মুভি। কিন্তু সেই আমির খানের ‘অপরাধ’ হলো তুরস্কে শ্যুটিং করতে গিয়ে তিনি সে দেশের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ানের সঙ্গে দেখা করেছেন।
ভারতের স্বাধীনতা দিবসে (১৫ আগস্ট) সেই ছবি নিজেই টুইট করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী, জানিয়েছেন বিখ্যাত এই ভারতীয় অভিনেতার সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি কতটা আনন্দিত। আমির খান তার ছবি ‘লাল সিং চাড্ডা’র শ্যুটিং তুরস্কেরই নানা প্রান্তে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি যে অত্যন্ত খুশি, সে কথাও জানিয়েছেন তুর্কী ফার্স্ট লেডি। আর এরই অভিঘাতে ইন্ডিয়ায় এখন তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হচ্ছে বলিউড তারকা আমির খানকে। খবর বিবিসির।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমটির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইন্ডিয়ার কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন- আরএসএস মুখপত্র পাঞ্চজন্য তাদের সাম্প্রতিকতম সংখ্যায় আমির খানকে নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছে, যার শিরোনাম হল ‘ড্রাগন-কা প্যায়ারা খান’, অর্থাৎ চীনের প্রিয় খান।
সেখানে লেখা হয়েছে, ’একদিকে যখন অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগন, কঙ্গনা রানাওয়াতের মতো অভিনেতারা একের পর জাতীয়তাবাদী ছবিতে অভিনয় করে নিজেদের দেশপ্রেমের পরিচয় দিচ্ছেন– তখন আমির খান ভারতের শত্রু দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করার মধ্যে কোনও অন্যায় দেখেন না!’

তুরস্ক যে তাদের কাশ্মীর নীতিতে ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের অবস্থানকেই সমর্থন করে, সে কথাও মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে নিবন্ধে। এছাড়া আমির খান যে চীনা মোবাইল কোম্পানি ভিভো-র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবেও ভারতে বহুদিন ধরে বিজ্ঞাপন করে আসছেন, উল্লেখ করা হয়েছে সে কথাও। সোজা কথায়, আমির খান যে ‘পয়সার জন্য’ চীন বা তুরস্কর মতো ভারতের শত্রু দেশগুলোর সাথে হাত মেলাতেও দ্বিধা করেন না, আরএসএস সম্পাদকীয় সরাসরি তার বিরুদ্ধে সেই অভিযোগই এনেছে।
এর ক’দিন আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও আমির খানকে ইঙ্গিত করে বলেছিল, “দেশের কয়েকজন ব্যক্তি ও তারকার ভারত-বিরোধী শক্তিগুলোর প্রতি প্রেম ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে আমরা লক্ষ্য করছি।”
বছরকয়েক আগে আমির খান এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার স্ত্রী কিরণ রাও ভারতে থাকতে আতঙ্কিত বোধ করেন। কারণ এ দেশে অসহিষ্ণুতার বাতাবরণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সেই বিতর্কিত সাক্ষাৎকারের পরও আমির খানকে ভারত-ছাড়া করার দাবি তুলেছিল বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন।
পাঞ্চজন্যর সম্পাদক হিতেশ শঙ্কর ‘দ্য প্রিন্ট’ নিউজ পোর্টালকে বলেছেন, ‘যেকোনও কারণেই হোক আমির খান কিন্তু চীনা কমিউনিস্ট পার্টির খুব প্রিয়– তারা স্পষ্টতই আমির খানের মুভিকে প্রোমোট করে।’ নিবন্ধে সে কারণেই মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, সালমান খানের ‘সুলতান’ চীনে তেমন না-চললেও আমির খানের ‘দঙ্গল’ কিন্তু সে দেশে রমরম করে চলেছে ও সুপারহিট হয়েছে।
আমির খান ও তার শ্যুটিং টিম এখন তুরস্কেরই নানা প্রান্তে ঘুরে ঘুরে তার নির্মীয়মান ছবি ‘লাল সিং চাড্ডা’র শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত। তার বা তার সংস্থার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি বলেও বিবিসির খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরএসএসের দাবি, আমির খানের এখনই সেই শ্যুটিং বন্ধ করে দেশে ফিরে আসা উচিত। নইলে তারা ধরেই নেবে ‘দেশের মানুষের ভাবাবেগকে আমির খান দুপয়সাও দাম দেন না!’

