করোনার ‘হটস্পট’ নারায়ণগঞ্জে আবারও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ০৯:৪৫
নারায়ণগঞ্জে যতই দিন যাচ্ছে ততই বাড়ছে নগরবাসীর ব্যস্ততা। সামাজিক দূরত্ব কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তারা। করোনার সেই ভয়বাহ সময়ের কথা ভুলে জেলায় জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ফলে আবারও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে করোনার হটস্পট নারায়ণগঞ্জে।
সচেতন মানুষেরা বলছেন, নগরবাসীকে শৃঙ্খলায় ফিরতে হবে, অন্যথায় ভবিষ্যতে নগরবাসীকে আরও কোনো বড় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
সরেজমিনে শহরের ২নং রেল গেইট এলাকায় দেখা গেছে, চারদিক থেকে যানবাহন চলাচলের কারণে কয়েক মিনিট পরপর ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়াতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। এতে করে বঙ্গবন্ধু সড়কের দুদিকেই লম্বা সিরিয়াল হয়ে যানজট সৃষ্টি হয়। তবে সিগন্যাল ছাড়তেই আবার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।
এ সময় দেখা যায়, রিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে যাত্রী চালকদের মাস্ক নেই। এক রিকশায় দুইয়ের অধিক যাত্রী। তাও কারো কোনো মাস্ক নেই। আবার একজনের মাস্ক আছে তো অন্যজনের নেই। আবার যাত্রীদের মাস্ক আছে তো চালকের মুখে মাস্ক নেই।
এদিকে, সরেজমিনে বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে দেখা যায় করোনার মহামারির সময় মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও করোনা সংক্রমণ রোধে মার্কেটগুলোর সামনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেরকম কোনো কিছু নেই। মার্কেটের সামনে থাকা হ্যান্ড ওয়াশ বেসিন, জীবাণুনাশক ট্যানেল, জীবাণুনাশক স্প্রে করা ইত্যাদি সবই উধাও হয়ে গেছে।
এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে রাস্তার মোড়ে বসানো পানির ট্যাংকগুলোও এখন নেই। যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা। বিশেষ করে যেখানে সেখানে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভসসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী।
‘আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’ সংগঠনের সভাপতি নূর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। করোনা শেষ হয়ে যায়নি, এখনও আক্রান্ত পাওয়া যাচ্ছে। করোনায় মানুষ যেমন সচেতন হয়ে শৃঙ্খলায় ফিরেছিল তেমনি সবাইকে শৃঙ্খলায় আসতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।’
নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, ‘মানুষকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তবে এখন অন্তত মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। এটাও যদি মেনে না চলে তাহলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাবে। অন্যথায় কোনোভাবেই করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব না। সবাইকে সচেতন হতেই হবে।’ -ইউএনবি।

