‘চুরির ঘটনা নয়, ইউএনও’র উপর হামলা পরিকল্পিত’

‘চুরির ঘটনা নয়, ইউএনও’র উপর হামলা পরিকল্পিত’

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট: ২০:২০

চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের উপর হামলা হয়েছে, র‌্যাবের এমন ভাষ্যের সঙ্গে একমত নন সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।’ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ইউএনও ওয়াহিদার ঘরে হামলাটি ছিল পরিকল্পিত। সারাদশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় ব্যাটালিয়ন আনসার নিয়োগের দাবিও তুলেছেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।

গত বুধবার রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে ঢুকে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীর উপর হামলা চালায় স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা। তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই হামলায় গুরুতর জখম ইউএনও ওয়াহিদা এখন ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হামলার ঘটনায় ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। যুবলীগের স্থানীয় এক নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার র‌্যাব জানায়, চুরির উদ্দেশ্যে ওয়াহিদা বাড়িতে ঢুকে ওই হামলায় আসাদুল হক নামে একজন, তার সহযোগী ছিলেন নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার বিশ্বাস নামে বাকি দু’জন। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।

এর মধ্যে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, ‘কোনো কোনো মহল ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য বিচ্ছিন্ন ও চুরির ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এটি কোনো চুরির ঘটনা নয়। কারণ, দুর্বৃত্তরা কোনো প্রকার জিনিস চুরি করেননি বা খোয়া যায়নি। এটি একটি পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনা এবং এর সাথে আরও অনেক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।’

ওয়াহিদাকে ‘সৎ ও নির্ভীক কর্মকর্তা’ অভিহিত করে নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, ‘বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল বেআইনি তদবিরে ব্যর্থ হয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব ও জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ইউএনও ওয়াহিদা ইদানিংকালে কিছু উচ্ছেদ করেছেন। আরও কিছু উচ্ছেদ করার জন্য কিছু লোকজন তার উপর সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। ওখানে যে বালুমহালে অবৈধভাবে বালু তুলতে সে বাধা দিয়েছিল। এ সমস্ত কারণে প্রভাবশালী কেউ হয়ত তার উপর ক্ষিপ্ত হতে পারেন। সেটির বহিঃপ্রকাশ এভাবে হতে পারে বলে আমরা মনে করি।’

জনপ্রশাসন সচিব আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এটি তদন্ত করছে। সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে উদ্দেশ্য করে আমরা কিছু বলতে পারছি না। তদন্ত কার্যক্রম যখন চলে, তখন যদি আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কথা বলি, তাহলে কিন্তু তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।’ শেখ ইউসুফ হারুনের মতে, ‘উপজেলাতে বিভিন্ন পেশা ও সংগঠনের লোকজন থাকেন। মানুষের চাহিদা অফুরন্ত হয়ে গেছে। সে চাহিদার মধ্যে কোনটা আইনি, কোনটা বেআইনি, এটা কিন্তু তারা অনেক সময় বাছবিচার করে না। আমাদের প্রান্তিক পর্যায়ের যে কর্মকর্তা, ইউএনও সাহেব, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকেন। মোবাইল কোর্ট থেকে শুরু করে আইনের প্রতিটি বিষয় উনি দেখভাল করে থাকেন। যেন কোথাও আইনের ব্যত্যয় না হয়। কোথাও আইনের ব্যত্যয় করে যদি কিছু আবদার করা হয়, তখন তা পেলে তিনি (ইউএনও) তাদের বিরাগভাজন হন।’

ওয়াহিদা খানমের উপর হামলার ঘটনায় আটকদের রাজনৈতিক পরিচয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এলেও ‘তদন্তের স্বার্থে’ এ নিয়ে কিছু বলতে চাইছেন না অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা তদন্তকারী দলগুলোকে নিজেদের মতামত ও পর্যবেক্ষণ জানাবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসকদের নিরাপত্তার জন্য ইতোমধ্যে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের নিরাপত্তায় ব্যাটালিয়ান আনসার নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে হেলালুদ্দীন বলেন, ‘সব জেলাতে ব্যাটালিয়ান আনসার নেই। যেসব জেলাতে আছে, আমরা সেখানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসকদের নিরাপত্তার জন্য ব্যাটালিয়ন আনসার নিয়োগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানাব।’

ইউএনওদের নিরাপত্তায় বাসভবনে নিয়োগ হচ্ছে আনসার
সংবাদ সম্মেলনে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুনের মামলার প্রসঙ্গটি উঠে আসে।
এ প্রসঙ্গে সংগঠনের সভাপতি হেলালুদ্দীন বলেন, ‘আপনারা শুনেছেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুনের বিরুদ্ধে কতিপয় অবৈধ বালু উত্তোলনকারী ও একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্ররোচনায় ফৌজদারি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য পিআইবির নিকট প্রেরণ করেছেন। অসংলগ্ন কথাবার্তায় ভর্তি এরকম একটি আর্জির ভিত্তিতে একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে মামলা নজিরবিহীন এবং দুর্ভাগ্যজনক। যদি মামলা গ্রহণ করা হয়, তাহলে জেলা প্রশাসন কী করে তার দায়িত্ব পালন করবে? আমরা অবিলম্বে এ মামলাটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারসহ যিনি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading