অর্থ পাচার মামলা : রফিকুল আমীনের জামিন হয়নি আপিলেও
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট: ২০:১২
ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনের অর্থ পাচারের দুই মামলায় সর্বোচ্চ আদালতেও জামিন মেলেনি । হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তার আবেদন আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ।
আদালতে রফিকুল আমীনের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন খুরশীদ আলম খান। খুরশীদ আলম খান বলেন, “ডেসটিনির দুই মামলার বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাছাড়া এর আগেও আপিল বিভাগ তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছিল। কিন্তু কোনো শর্তই সে পূরণ করতে পারেনি।
“এর বাইরে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এবং মামলার প্রধান আমসামি হওয়ায় তার জামিনে আপত্তি জানিয়েছি। আদালত আজ তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।” দুর্নীতি দমন কমিশন ২০১২ সালের ৩১ জুলাই রাজধানীর কলাবাগান থানায় ডেসটিনি গ্রুপের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে।
তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৫ মে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এর মধ্যে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মামলায় ১৯ জন এবং ডেসটিনি ট্রি প্লানটেশন লিমিটেডে দুর্নীতির মামলার ৪৬ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৮ সাল থেকে ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন প্রোজেক্টের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাত করা হয়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাড়ে ১৭ লাখ বিনিয়োগকারী।
আর মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ প্রোজেক্টের নামে ডেসটিনি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিল ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে ধরা পড়ে। ওই অর্থ আত্মসাতের ফলে সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেসটিনি গ্রুপের নামে ২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল নামসর্বস্ব। আসামিরা প্রথমে প্রোজেক্টের টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা করতেন, তারপর বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে তা স্থানান্তর করা হতো। দুদক ৩৪টি ব্যাংকে এ রকম ৭২২টি হিসাবের সন্ধান পায়, যেগুলো পরে জব্দ করা হয়। আত্মসাত করা চার হাজার ১১৯ কোটি টাকার মধ্যে ৯৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগও আনা হয় দুই মামলায়।
ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা ২০১৬ সালের ২৪ অগাস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ দুই মামলায় আসামিদের বিচার শুরু করে। অভিযোগ গঠন হওয়ার আগেই ট্রি প্ল্যান্টেশনের অর্থ আত্মসাতের মামলায় ২০ জুলাই পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে হাই কোর্ট থেকে জামিন পান রফিকুল আমীন।
এর বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে গেলে জামিন স্থগিত হয়ে যায়। এরপর দুদকের আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়ে ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়। ছয় সপ্তাহের মধ্যে ট্রি প্ল্যান্টেশন প্রকল্পের গাছ বিক্রি করে ২৮০০ কোটি টাকা অথবা অন্য কোনোভাবে ২৫০০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের পরিশোধের শর্ত দেওয়া হয় জামিন পাওয়ার জন্য।
কিন্তু কোনো শর্তই পূরণ করতে পারেননি ডেসটিনির ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন। ফলে তাদের জামিনও হয়নি। পরে ২০১৭ সালে আপিল বিভাগের ওই আদেশ সংশোধন চেয়ে আবেদন করেন রফিকুল আমিন। সে আবেদনও খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।
এরপরও হাই কোর্টে কয়েক দফা জামিন আবেদন করে ব্যর্থ হন রফিকুল আমিন। সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট অর্থ পাচারের দুই মামলায় রফিকুল আমীনের জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। সেই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে মামলা দুটির নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়। হাই কোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধেই আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন রফিকুল আমিন। দুটি আবদনই রোববার খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

