ফখরুলের মন্তব্য : রোহিঙ্গাদের রেখে দেওয়ার ভাবনা ‘কল্যাণকর হবে না’
উত্তরদক্ষিণ | শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৭:৪৩
মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে `স্থায়ীভাবে’ বাংলাদেশে রাখার কথা ভাবা হলে তা ‘কল্যাণকর হবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোহিঙ্গা সঙ্কট সামাল দিতে সরকার ‘ব্যর্থ হয়েছে’ দাবি করে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে থাকা এই জনগোষ্ঠিকে নিজভূমে পুনর্বাসনের কোনো বিকল্প নেই।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, ২০১৭ সালে ২৫ অগাস্টের পর বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তিন বছরেও তার সমাধান সরকার করতে পারেনি।
“আমাদের মনে রাখতে হবে, রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠি। বিশ্বের মানচিত্রে এই জনগোষ্ঠীকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনায় বেসামরিক তদারকিতে মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে যথাযথ নাগরিক অধিকার ও মর্যাদায় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের আবাসভূমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
“আর সেটা কেবল তখনই সম্ভব হবে, যখন বাংলাদেশের নেতৃত্বে এ যাবতকালের সকল দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগকে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীকে বাঁচানোর জন্য এক সুতোয় বাঁধা সম্ভব হবে।”
রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “কোনো একটা পত্রিকায় ছাপা হল যে, স্থায়ীভাবে শরণার্থীদের বসবাসের জন্য ভাসানচরে একটি সিটি গড়ে তোলা হয়েছে। অর্থাৎ রোহিঙ্গারা স্থায়ীভাবে এখানে থাকবে, সেই বিষয়টা বোধহয় সরকার নিশ্চিত করছেন।
“স্থায়ীভাবে তাদেরকে রাখা বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য তো নয়। এটা যে বাংলাদেশের মানুষের কত বড় সমস্যা তা কিছুদিন পরে আমরা অনুধাবন করতে পারব। এটা একটা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বলে আমরা মনে করি।”
এ সঙ্কট সমাধানে ‘জাতীয় ঐক্যের’ আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব সরকারের উদ্দেশে বলেন, “সরকারের প্রতি আবারো আহ্বান জানাই, রোহিঙ্গা সমস্যা দূর করতে হলে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন, গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করুন, বর্হিবিশ্বে দেশের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করুন।” রোহিঙ্গা সঙ্কটকে ‘অগ্রাধিকার দিয়ে’ জাতিসংঘে না নিয়ে গেলে’ তা বাংলাদেশে ‘ভয়ানক বিপর্য্য়’ ডেকে আনবে বলেও হুঁশিয়ার করেন ফখরুল।
বাংলাদেশের সীমানায় গত সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির খবরে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে ‘আন্তঃআঞ্চলিক কূটনৈতিক’ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, “কেন আজকে এখানে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আমরা কথা বলছি। এই দেখেন না সৈন্য সমাবেশ করছে; আজকে ভারত-চীন সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ হয়, এটা নিয়ে তোলপাড় হয়ে যায়। আমাদের সরকারের কোনো কথা নেই।
“তারা একেবারে চুপচাপ থেকে নিরাপত্তা পরিষদে একটি চিঠি দিয়েছে। এখন পর্যন্ত কার্য্কর কোনো পদক্ষেপ এ্ই সরকার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে নিতে পারেনি।” এ সমস্যার সমাধানে যে ধরনের ‘সমন্বিত বহুমুখী তৎপরতা’ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা সরকার নিতে ‘ব্যর্থ হয়েছে’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

