নারী নেত্রীদের প্রশ্ন : আইনপ্রণেতারা চুপ কেন

নারী নেত্রীদের প্রশ্ন : আইনপ্রণেতারা চুপ কেন

উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট:১৯:১২

দেশে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে ‘চুপ থাকায়’ আইনপ্রণেতাদের সমালোচনা করেছেন নারী অধিকার নিয়ে সোচ্চার নেত্রীরা। নোয়াখালী, সিলেট, খাগড়াছড়িসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ-নির্যাতনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি থেকে নারী নির্যাতন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মুসলেম বলেন, “ধর্ষণকারীরা কোন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় আছে তা দেশবাসী জানে। অথচ আমাদের আইনপ্রণেতারা ও প্রশাসন জানে না? আজকে তারা নিশ্চুপ, প্রশ্ন তো জাগেই। “আজকে জাতীয় সংসদের স্পিকার যিনি নোয়াখালীর মেয়ে… তিনি কিছু বলেছেন? তার কি কোনো কিছুই বলার নাই?”

সীমা বলেন, “ধর্ষকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যদি কথা না বলি তাহলে এই ধর্ষণের মহামারী বন্ধ হবে না।” বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফৌজিয়া মুসলেম বলেন, “যতদিন পর্যন্ত আমাদের আইনপ্রণেতারা এসব সবুজ বাহিনী দেলোয়ার বাহিনীর পাশে থাকবে ততদিন পর্যন্ত আমরা কি ধর্ষণের বিচার আশা করতে পারি?

“আইন প্রণেতাদের আজকে বাধ্য করতে হবে আমাদের সামনে জবাবদিহি করতে। তার এলাকায় কোনো ধর্ষণ হলে তিনি সংসদে জবাবদিহি করবেন। আজকে সংসদকে একটি জবাবদিহির জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। এই জায়গায় যদি আমরা না আসতে পারি তাহলে আমরা কোনো কিছুর বিচার করতে পারব না।”

‘আইনের প্রয়োগ না হওয়ায়’ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না বলে মনে করেন ফৌজিয়া মুসলেম।তিনি বলেন, “আইনের প্রয়োগ কীভাবে হবে যদি আইনপ্রণেতারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে? তাহলে তো আইনের প্রয়োগ করা খুব দুষ্কর।” দেশব্যাপী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, “এখান থেকে বাঁচার একটাই পথ আছে গর্জে ওঠো। কে গর্জে উঠবে শুধু নারীরা? আজকে বাংলাদেশকে গর্জে উঠতে হবে।

“আজকে দেলোয়ার সাগর যারা বিপথে পরিচালিত হয়েছে, ক্ষমতার লোভে যাদের ব্যবহার করা হচ্ছে… তারা ক্ষমতার হাতিয়ার না হয়ে সত্যিকারে মানুষ হিসেবে এগিয়ে আসুক…গর্জে উঠুক… বাংলাদেশকে রক্ষা করুক। ” নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের দাবি জানান বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

আইন সংস্কারের দাবি জানিয়ে ওয়াইডব্লিউসিএ’র প্রতিনিধি শিপ্রা দাস বলেন, “এর মধ্যে থাকবে না কোন ফাঁক, থাকবে না কোনো জামিনের ব্যবস্থা। এতে করে অপরাধীরা আর আইনের ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে আসতে পারবে না।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি : ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেই বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে গণধিক্কার ও ‘অযোগ্য’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করা হয়।

বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র ঢাকা মহানগরের সদস্য নাজনীন আক্তার শারমিন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী।
সমাবেশে ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, “আজকে সারা দেশ যখন ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল, তখন আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- পৃথিবীর সমস্ত দেশে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

“ধর্ষকদের পক্ষে ক্ষমতাসীনদের এ কেমন বক্তব্য? আজকে একটি ধর্ষণের ঘটনা যখন বিচার হয় না, তখন আর একটি ধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।” তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি আজকে দেশে ধর্ষক তৈরি করেছে। তাদের রাজনীতি আজকে ধর্ষকদের পথ তৈরি করে দিচ্ছে।”

সীমা দত্ত বলেন, “একের পর এক নারী ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনা যখন ঘটছে, তখন মানুষ যার কাছে নিরাপত্তা বিধানের জন্য আবেদন জানাবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতির সামনে হতবাক করা বক্তব্য দিয়ে প্রশ্ন তুললেন, কোন দেশে নারী ধর্ষণ হয় না। নারী ধর্ষণের ঘটনা কি তাহলে অত্যন্ত স্বাভাবিক? “তার এই ধরনের বক্তব্যে সাহস পেয়ে আরও দ্বিগুণ উৎসাহ পাবে ধর্ষকরা।”

নোয়াখালীর ঘটনায় অনেকেই ‘মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন’ দাবি করে সীমা দত্ত বলেন, “ধর্ষণের ঘটনা আজ এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যে, বাবা তার সন্তানকে রক্ষা করতে পারছে না, ভাই তার বোনকে রক্ষা করতে পারছে না, স্বামী পারছে না তার স্ত্রীকে রক্ষা করতে। জনগণের এই চরম দুঃসময়ে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জনগণ ঘৃণাভরে বর্জন করেছে।” সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

নাজমিন আক্তার শারমিন বলেন, “ঘরে বাইরে আজ মানুষ ভীষণ নিরাপত্তাহীন। রাষ্ট্র অপরাধীদের পক্ষে ,তাই আজ সিদ্ধান্ত নিতে হবে মানুষের বসবাস উপযোগী সমাজ নির্মাণের কাজ কারা নেবে রাষ্ট্র নাকি সচেতন জনগণ? ”

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading