সুপার এল নিনো’র আশঙ্কায় বিশ্ব
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ২০২৬, আপডেট ২১:৩০
প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং এল নিনোর নতুন ঢেউ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়াবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এল নিনো তৈরি হওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে এবং এটি শক্তিশালী হয়ে বিরল ‘সুপার এল নিনো’তে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রাকৃতিক ঘটনার ফলে আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলপ্রবাহের একটি পর্যায়, যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর বিশাল প্রভাব ফেলে। এর বিপরীত পর্যায়টি হলো লা নিনা, যা শীতল জলপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত। আমেরিকার ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্র এ মাসের শুরুতে জানিয়েছে, মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এল নিনো তৈরির শঙ্কা ৬১ শতাংশ এবং এটি অন্তত ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
অ্যাকুওয়েদারের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস প্রদানকারী পল প্যাস্টেলক জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণে ১৫ শতাংশ শঙ্কা রয়েছে যে এটি ‘সুপার এল নিনো’তে পরিণত হবে।
সাধারণত কয়েক মাস ধরে সমুদ্রের গড় তাপমাত্রা অন্তত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকলে তাকে সুপার এল নিনো বলা হয়। ওয়েদার চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, এটি ২০২৩-২০২৪ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র পাঁচটি উষ্ণায়ন ঘটনার একটি ছিল।
আমেরিকার আবহাওয়ার ওপর এল নিনোর প্রভাব নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন অ্যাকুওয়েদারের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ চ্যাড মেরিল। তিনি জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম এবং পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে উপসাগরীয় উপকূল থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে, যার মাঝে মাঝে ভারী বৃষ্টিপাতের শঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ইউডি/এবি

