রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৯:৩০
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন দ্রুত না হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি যে বাড়িয়ে তুলবে, তা চীনকে জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং রবিবার (১১ অক্টোবর) দেখা করতে গেলে তাকে এই ঝুঁকির কথা জানান তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এখনও শুরু না হওয়ায় চীনের রাষ্ট্রদূতও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মোমেন রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।
“রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে তারা এ এলাকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। “কিছু রোহিঙ্গা মাদক পাচারের সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দু’দল রোহিঙ্গার সংঘর্ষে এদের ৮ জন মারা গেছে।” কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় অপরাধের ঘটনা উত্তরোত্তর বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
“প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দেরি হওয়ায় দিনে দিনে রোহিঙ্গা এবং বিদেশি সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠানের উপর স্থানীয় জনগণের অসন্তুষ্টি ঘনীভূত হচ্ছে।” এছাড়া মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ ঘটানোর ফলে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মোমেন বলেন, “রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাহায্য প্রদান এবং জীবন মানের উন্নয়ন এ সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং তাদের প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে এসমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার।” চীনের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।পিরোজপুরে চীনের নাগরিক হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের অওতায় আনার বিষয়েও দেশটির রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন।
তিনি বলেন, “সরকার এবিষয়ে অত্যন্ত তৎপর। এ ঘটনার প্রধান আসামিসহ দু’জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দেশে আটকে পড়া চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা নবায়নের বিষয়ে চীন সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয়ে চীন সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন চীনের রাষ্ট্রদূত জিমিং। তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী ও পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে ভিসা দেওয়া শুরু হয়েছে।”

