প্রেসিডেন্টস কাপ : ধারাবাহিকতায় উজ্জ্বল তাসকিন
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৯:৪৫
তিন দলকে নিয়ে মিরপুরে রবিবার (১১ অক্টোবর) শুরু হয়েছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ। নিজেকে নতুন করে চেনানোর চেষ্টায় দারুণ ধারাবাহিকতায় এগিয়ে চলেছেন তাসকিন আহমেদ। লাল বলে আগুন ঝরানোর পর এবার সাদা বলেও এই ফাস্ট বোলার উপহার দিলেন দারুণ বোলিং। তার নতুন বলের সঙ্গী আল আমিন হোসেনও মেলে ধরলেন নিজেকে। এক ওভারে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নিয়ে ছাপ রাখলেন তরুণ পেসার মুকিদুল ইসলাম। পেস ত্রয়ীর সৌজন্যে প্রেসিডেন্ট’স কাপের প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে মাহমুদউল্লাহ একাদশকে ১৯৬ রানেই গুটিয়ে দিয়েছে শান্ত একাদশ।
টস জিতে বোলিংয়ে নামা শান্ত একাদশের তিন পেসারই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। তবে গতি, আগ্রাসন, কিছুটা সুইং মিলিয়ে সেরা বোলার ছিলেন নিঃসন্দেহে তাসকিন। এই টুর্নামেন্টের আগে দুটি দুই দিনের ম্যাচেও তার বোলিং ছিল দুর্দান্ত।
মাহমুদউল্লাহর দলের একমাত্র ফিফটি এসেছে অধিনায়কের ব্যাট থেকে। চারে নেমে ইমরুল কায়েস করেছেন ৪০। দুজনেরই বড় ইনিংসের সম্ভাবনা শেষ হয়েছে নিজের ভুলে।
সেই দায় অবশ্য দেওয়া যায় মাহমুদউল্লাহ একাদশের প্রায় সব ব্যাটসম্যানকেই। উইকেট সময়ের সঙ্গে মন্থর হয়েছে। তবে দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার মতো ভয়ঙ্কর ছিল না। ব্যাটসম্যানরাই প্রায় সবাই বিলিয়ে এসেছেন নিজেদের।
ম্যাচের শুরুটা মাহমুদউল্লাহ একাদশের জন্য ছিল আশা জাগানিয়া। প্রথম ওভারে তাসকিনকে দৃষ্টিননন্দন স্কয়ার ড্রাইভে চার মারেন লিটন দাস। পরের ওভারে আল আমিন হোসেনকে কাট করে বাউন্ডারিতে পাঠান মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ৩ ওভারে ১৭ রান তোলার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে পৌনে এক ঘণ্টা। দলের ছন্দপতনের শুরু হয়তো সেই বিরতি থেকেই।
বৃষ্টির পর প্রথম বলেই দ্রুত সিঙ্গেল নেওয়ার চেষ্টায় রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত সরাসরি থ্রোয়ে আউট হন নাঈম। পরের ওভারে তাসকিনের বাড়তি লাফানো বলে বাজে শটে প্লেড অন হন লিটন। সেটির রেশ মিলিয়ে না যেতেই আল আমিনকে আলসে ড্রাইভ খেলে স্টাম্পে বল টেনে আনেন মুমিনুল হক। টানা তিন ওভারে উইকেট হারিয়ে দলের রান তখন ৩ উইকেটে ২১।
সেখান থেকেই দুই অভিজ্ঞ ইমরুল ও মাহমুদউল্লাহর ইনিংস মেরামতের লড়াই। আল আমিন ও তাসকিনের তৈরি করা চাপ সেভাবে ধরে রাখতে পারেননি মুকিদুল। স্পিনার নাঈম আক্রমণে আসার পর দুই ব্যাটসম্যান শুরু করেন পাল্টা আক্রমণ। নাঈমকে স্লগ সুইপে ছক্কায় ওড়ান ইমরুল, একই ওভারে বেরিয়ে এসে লং অনের ওপর দিয়ে ওড়ান মাহমুদউল্লাহ।
৭৩ রানের এই জুটি ভেঙেছে নাঈমের বলেই। পুল খেলার মতো যথেষ্ট শর্ট বল না হলেও পুল করে দেন ইমরুল, মিড উইকেটে ক্যাচ নেন সাইফ।ছয়ে নেমে নুরুল হাসান সোহান খুব স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেননি। ১৮ রান করে রানআউট হয়েছেন নিজের খামখেয়ালিতে, সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্প ভাঙেন নাজমুল হোসেন শান্ত। মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমান এরপর চেষ্টা করেছেন দলকে এগিয়ে নিতে। ৮০ বলে ফিফটিতে পা রাখেন মাহমুদউল্লাহ।
এই দুজনই ফেরেন মুকিদুলের এক ওভারে। ফিফটির পরপরই অযথা স্লগ করে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহ (৮২ বলে ৫১)। লেগ স্টাম্পের বাইরের বল ফ্লিক করতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন সাব্বির।
এরপর লোয়ার অর্ডারে আবু হায়দার ও রকিবুল হাসানের চেষ্টায় দল যায় দুইশর কাছাকাছি। শেষ দিকে নিজের প্রথম ওভারে উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করে দেন সৌম্য সরকার। নতুন বলের মতো পুরোনো বলেও প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেন তাসকিন ও আল আমিন। লেগ স্পিনার রিশাদ খুব নজরকাড়া কিছু করতে না পারলেও রান দেননি বেশি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
মাহমুদউল্লাহ একাদশ: ৪৭.৩ ওভারে ১৯৬ (লিটন ১১, নাঈম ৯, মুমিনুল ০, ইমরুল ৪০, মাহমুদউল্লাহ ৫১, সোহান ১৪, সাব্বির ২২, বিপ্লব ৬, আবু হায়দার ১৪*, রকিবুল ১৫, রুবেল ১; তাসকিন ১০-০-৩৭-২, আল আমিন ১০-১-৪০-২, মুকিদুল ৯-০-৪৪-২, নাঈম ১০-১-৩৯-১, রিশাদ ৮-০-৩৩-০, সৌম্য ০.৩-০-১-১)।

