জি কে শামীমের জামিন: ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রূপাকে দুদকে তলব
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৯:৫৫
আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির সাথে ‘আঁতাত করে জামিন করিয়ে দিয়ে অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় তাকে ঢাকার সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) নোটিস পাঠিয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসীর দপ্তরের ঠিকানায় ওই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তা ‘বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঘুষ গ্রহন করে জি কে শামীমসহ বিভিন্ন আসামির সাথে আঁতাত করে জামিন করিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন’ বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপি সঙ্গে নিয়ে ৪ নভেম্বর দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে রূপাকে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানে ব্যর্থ হলে অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার কোনো বক্তব্য নেই মর্মে গণ্য করা হবে।”
এ বিষয়ে কথা বলতে জান্নাতুল ফেরদৌসীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে পারা যায়নি।
গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যে গুলশানের নিকেতনে জিকে শামীমের অফিসে অভিযান চালায় র্যাব। শামীমের সঙ্গে তার সাত দেহরক্ষীকেও সেদিন গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ বেরিয়ে আসতে থাকে। জানা যায়, যুবলীগ নেতা পরিচয়ে শামীম গণপূর্তের সব কাজের দরপত্র বাগিয়ে নিতেন। গ্রেপ্তারের পরদিন তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় তিনটি মামলা করে র্যাব। পরে দুদকও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে।
এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে মাদক মামলায় ছয় মাস এবং ৬ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র মামলায় এক বছরের জামিন পান শামীম। সেই জামিনের কাগজপত্র পরের মাসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছালে বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
পরে গত ৮ মার্চ অস্ত্র ও মাদকের দুই মামলায় শামীমকে দেওয়া জামিনের আদেশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহার (রিকল) করে নেয় হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ। আদালত সে সময় বলে, ‘নাম বিভ্রাটে’ বুঝতে সমস্যা হয়েছিল যে ওই ব্যক্তি জি কে শামীম।
হাইকোর্টের যে বেঞ্চ থেকে জি কে শামীম মাদক মামলায় জামিন পেয়েছিলেন সেই বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন ডিএজি জান্নাতুল ফেরদৌসী। তথ্য সহায়তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

