যমুনার ভাঙন ঠেকাতে ৫৬০ কোটি টাকার প্রকল্প
উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৮:৪৮
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সিংড়াবাড়ী, পাটগ্রাম ও বাঐখোলা এলাকাকে যমুনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষায় ৫৬০ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার। ‘যমুনা নদীর ভাঙন হতে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলাধীন সিংড়াবাড়ী, পাটগ্রাম এলাকা সংরক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ছয় কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ১২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার বাঁধ পুনরাকৃতিকরণ এবং এক দশমিক ১৫ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত তীর সংরক্ষণ, পুনর্বাসন ও শক্তিশালী করা হবে।
প্রকল্পটি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। এদিন এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেকের ভার্চুয়াল সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে যমুনা ভাঙন রোধ প্রকল্পটির বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ।
তিনি বলেন, যমুনা নদীর ডানতীর ভাঙন হতে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলাধীন সিংড়াবাড়ী, পাটগ্রাম, ও বাঐখোলা এলাকা সাধারণ মানুষ ও সরকারি সম্পদ, ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষায় এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকার আবাসিক ভবন স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাট বাজার ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরবকারি বেসরকারি অবকাঠামো, ফসলি ও কৃষি জমি, রাস্তা ঘাটসহ আনুমানিক প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষায় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়াও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি নদীর গতিপথ পরিবর্তন রোধ, সামাজিক নিরাপত্তাসহ এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখা এবং প্রকল্প এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে প্রকল্পের মাধ্যমে।
অনুমোদিত প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সিরাজগঞ্জ জেলা ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীরে অবস্থিত। প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকায় ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৮ সাল মেয়াদে কুড়িগ্রামের কাউনিয়া থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার ভেড়াখোলা পর্যন্ত ২১৭ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ওই বাঁধের কারণে ঘরবাড়ি, স্কুল কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগসহ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা পাচ্ছে।
কিন্তু বিগত কয়েক বছরের বন্যায় ডানতীর ভাঙনের ফলে বাহুকা-শুভগাছা এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অনেক কাছে চলে এসেছে এবং বাধের টো লাইনসহ প্রায় ২০০ মিটার এলাকা নিয়ে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, একনেকের বৈঠকে এই প্রকল্পটিসহ মোট দুই হাজার ৪৫৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার চারটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এসব প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৬৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা যোগান দেওয়া হবে। এছাড়া প্রকল্প সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ৬০৭ কোটি কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং ১৮২ কোটি ১৪ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থার তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে-
১. কক্সবাজার জেলায় শুটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন প্রকল্প। এর ব্যয় ১৯৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
২. পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল জেলা মহাসড়কে একস্তর নিচু দিয়ে উভয় পাশে পৃথক সার্ভিসলেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ (ডাঙ্গা বাজার-ইসলামপুর লিংকসহ) প্রথম সংশোধিত প্রকল্প। এতে ব্যয় বৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৫৫১ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
৩. আমিন বাজার-মাওয়া-মংলা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প। এতে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এক হাজার ১৪৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

