আমেরিকা থেকে কেনা হচ্ছে ১ কোটি ৩০ লাখ লিটার পাম ওয়েল
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ০৯:২০
সরকার নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারীদের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম ওয়েল এবং মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমেরিকার প্রতিষ্ঠান থেকে এ তেল কেনার পাশাপাশি যমুনা সেতুর সংস্কার ও প্রশস্তকরণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও বড় অঙ্কের ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র পদ্ধতিতে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম ওয়েল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমেরিকা ভিত্তিক পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি থেকে এই তেল কিনতে ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। একই বৈঠকে জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে মসুর ডাল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮ হাজার টন ডাল সংগ্রহ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ২ হাজার টন ডাল কেনা হবে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ঢাকার গুলশানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইজ সার্ভিসেস লিমিটেড এই ডাল সরবরাহ করবে।
তবে বৈঠকের নির্ধারিত এজেন্ডায় থাকা বাপেক্সের তিনটি অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প, সিলেট-১২ নম্বর কূপ খনন, স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি এবং বিদ্যুৎখাতের একাধিক প্রকল্প সংক্রান্ত প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হয়নি।
অন্যদিকে, যমুনা সেতুর ডেক সংস্কার, প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণের জন্য ২৭৮ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৪৬৩ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় সেতুর ডেক উন্নয়ন এবং পরিত্যক্ত রেল লেনকে ব্যবহারযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কাজের জন্য চীনের চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে যৌথভাবে এ কাজ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী শাসন কার্যক্রম জোরদারে ২৩৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ‘যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১’ এর আওতায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ, গ্রোয়েন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পে এম. এম. বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে টিএসপিসিএলের জন্য ৩০ হাজার টন রক ফসফেট আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জেনট্রেড এফজেডই সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৩ দশমিক ৯০ আমেরিকার ডলার।
ইউডি/কেএস

