সংসদ লেকে ভাসল গয়না নৌকা
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৭:৩৫
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সংসদ লেকে ভাসানো হল আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ও দৃষ্টিনন্দন দুটি গয়না নৌকা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদের লেকে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তৈরি করা নৌকা দুটি ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
নৌকার লাল-সবুজ পালের মাঝে রয়েছে বঙ্গবন্ধু জন্ম শতবর্ষের লোগো। নৌকার ছাউনিতে রয়েছে বিভিন্ন গ্রামীণ নকশা। পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস বলেন, “দৃষ্টিনন্দন এ নৌকা দুটি তৈরিতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। নৌকা দুটি ২৭ ফুট লম্বা এবং পাঁচ ফুট চওড়া।”
তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে নৌকা দুটি তৈরি করা হয়। এর নকশাও তিনি করেছেন। পরে প্রখ্যাত শিল্পী হাশেম খান কিছু সংযোজন-বিয়োজন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়েই নৌকা দুটি তৈরি করা হয় জানিয়ে রাম চন্দ্র বলেন, “আমরা সংসদ সচিবালয়কে এটা দিয়েছি। তারা এখন এর ব্যবস্থাপনা দেখবে।” সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নৌকা ভাসানোর অনুষ্ঠানের খবর জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, “নৌকা ও জয় বাংলা বাঙালির জন্য একটি শক্তি। নৌকা ও জয় বাংলা স্লোগানের মধ্যেই স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের অনুপ্রেরণা জড়িয়ে আছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নৌকাকে প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, কারণ ওই সময় দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ জীবিকা অর্জনে নৌকার উপর নির্ভরশীল ছিলেন।”
তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ লেকে নৌকা ভাসানোর মাধ্যমে লেকের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সংসদ ভবন পরিদর্শনে আরও বেশি আকৃষ্ট করবে।”
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, “বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিত হয়। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নেতৃত্বে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে।
“নৌকা প্রতীকের মাধ্যমে দেশের আবহমান ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু নৌকার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এবং মানুষকে মুক্তি সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করতেন।”
সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন হুইপ ইকবালুর রহিম, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সংসদ সদস্য নাহিদ ইজাহার খান, সৈয়দা রুবিনা আক্তার।

